চট্টগ্রাম, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

২০ বছরে চালের ঘাটতি সর্বোচ্চ

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৩ ১:৫৭ : অপরাহ্ণ

চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ধানের উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। ফলে গত ২০ বছরের মধ্যে খাদ্যপণ্যটির ঘাটতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যবসাভিত্তিক প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এতে উল্লেখ করা হয়- চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে (ইইউ) ধানের উৎপাদন বেশ কমেছে। ফলে চালের দাম বেড়েছে। বিশ্বের ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য চাল। স্বাভাবিকভাবেই মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

বিশ্বে মোট উৎপাদনের ৯০ শতাংশ চাল ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মানুষ। দর বাড়ায় এখানকার সাধারণ জনগণের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

 

 

 

ইউএস বিনিয়োগ ও বীমা কোম্পানি ফিচ সল্যুশনস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ২০২৩ সালে ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিগত ২ দশকের মধ্যে তা সবচেয়ে কম।

সিএনবিসিকে বিশ্লেষকরা বলেন, চালের এ বিশাল ঘাটতি প্রধান প্রধান আমদানিকারকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগামীতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা।

 

 

ফিচ সল্যুশনসের পণ্য বিশ্লেষক চার্লস হার্ট বলেন, বিশ্বব্যাপী ধানের উৎপাদন কমেছে। এতে চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে দামও বেড়েছে। গত ১ দশকের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ ঊর্ধ্বমুখিতা বিদ্যমান থাকতে পারে।

এ বছর প্রতি কুইন্টাল (১০০ কেজি) চালের দাম থাকার সম্ভাবনা আছে ১৭ দশমিক ৩০ ডলার। তবে আগামী বছরে সেটা ১৪ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে মুখ্য খাদ্য চাল। যার দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। এতে এ অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

সবমিলিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চালের বৈশ্বিক ঘাটতি হবে ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন। ২০০৩-০৪ অর্থবছরের পর যা সবচেয়ে বেশি। সেবার বিশ্ববাজারে ঘাটতি ছিল ১৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈরি আবহাওয়ায় চীন, সিরিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ধান কম উৎপন্ন হয়েছে।

 

 

গ্লোবাল ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার ব্যাংক রাবোব্যাংকের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বলেন, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিতেও চালের উৎপাদন নিম্নমুখী হয়েছে। মূলত এ কারণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এতে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক দেশের আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। কারণ, তাদের তাদের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে।

 

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF