চট্টগ্রাম, রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪ , ১লা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাত পেতে নয়, বাঁচতে চাই আত্মসম্মান নিয়ে: চাষাবাদে তৃতীয়লিঙ্গের সাফল্য

প্রকাশ: ১ এপ্রিল, ২০২৩ ১:০০ : অপরাহ্ণ

গাজীপুরের কোনাবাড়ির বাইমাইল বিলের, উঁচু একটি মাঠে একসময় ছিলো ইটভাটা। বছর পাঁচেক আগে বন্ধ হয়ে যায় সেটির কার্যক্রম। পড়ে থাকা জমি বর্গা নিয়ে পরম যত্নে চাষ উপযোগী করা হয়েছে। ১৩ বিঘার ধান কাটা হবে এ মাসেই।

তবে সচরাচর যাদের চাষাবাদে দেখা যায় তারা নয়, এ ফসল তৃতীয় লিঙ্গের একদল মানুষের শ্রমে-ঘামে। সমাজে যাদের পরিচয় হিজড়া।

ধানের পাশাপাশি আরও প্রায় তিন বিঘা জমিতে চাষ করেছেন টমেটো, করলা, লালশাক, লাউসহ নানা জাতের সবজি। কদিন আগেই খেত থেকে তোলা হয়েছে পেঁয়াজ।

গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি-কবুতরের খামারও করেছেন তারা। আয়ও হচ্ছে বেশ। তাদের আশা আরও বড় পরিসরে কাজ করবেন তারা।

 

 

৫০ জনের দলটির নেতৃত্বে থাকা কালু জানালেন, প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই চলতে হয় তাদের। একটু ভালো থাকার আশায়, মাস পাঁচেক হলো কৃষিকাজ শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, হাত পেতে নয়, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। কৃষি উদ্যোগ নিয়েছি কারণ এটি জনগণের জন্যেও ভালো আমাদের জন্যেও ভালো। আর জনগণও দেখলো আমরাও কিছু করতে পারি।

 

 

শুরুতে ছিলো নানা আলোচনা-সমালোচনা। কাজের মাধ্যমেই সেসবের জবাব দিয়েছেন কালু। বলেন, লোকজন বলেছে ওরা হিজড়া, ওরা কি করবে, কেমনে ফসল ফলাবে, কেমনে কৃষি কাজ করবে। ওরা পারবে না, শুধু শুধুই টাকা-পয়সা নষ্ট করতেছে। কিন্তু আমাদের কাছে পরিশ্রম করে খেলে সেটাই সম্মানের।

 

 

এ চাষিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রয়োজনে বিশেষ বিবেচনারও আশ্বাস তাদের। জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ওনাদেরকে প্রযুক্তিগত, কারিগরি সবধরনের সহযোগিতা থেকে বীজ-সারে আর্থিক সহায়তা করতে চেষ্টা করবো। এছাড়া সরকারি প্রণোদনা যদি দিয়ে থাকে প্রতি বছর তবে সেই খাত থেকে আমরা চেষ্টা করবো ওনাদের সহযোগিতা করতে।

 

 

এ কর্মকর্তা জানান, আসছে আমন মৌসুমেই এ সহায়তা দেয়া সম্ভব।

সৎপথে যেকোনো উপার্জনই সম্মান ও গৌরবের। সেই চিন্তা থেকেই কৃষি কাজের এই উদ্যোগ বলে জানান তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষগুলো। তারা বলছেন, সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে দেশ ও সমাজ গঠনে তারাও রাখতে পারেন ভূমিকা।

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF