চট্টগ্রাম, রোববার, ১৯ মে ২০২৪ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার সৈকতে আবারও ভেসে এসেছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ

প্রকাশ: ৩০ মার্চ, ২০২৩ ১০:৪৯ : পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার সৈকতে ফের ভেসে এলো শত শত মৃত জেলিফিশ। বুধবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের কলাতলী পয়েন্ট সৈকতে সামুদ্রিক জোয়ারের সঙ্গে এসব মরা জেলিফিশ ভেসে আসে। এর আগে গত বছরের বিভিন্ন সময়েও এভাবে শত শত মরা জেলিফিশ ভেসে আসতে দেখা যায়।

তবে এবার ভেসে আসা জেলিফিশের জাতটি ভিন্ন বলে জানান বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বোরি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও সমুদ্র বিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর।

 

 

তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের কলাতলী পয়েন্ট সৈকতে ফের মৃত জেলিফিশ ভেসে আসার খবর পেয়ে সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বোরি’র কুইক রেসপন্স টিমের বিজ্ঞানীরা ঘটনাস্থলে যান এবং প্রজাতি শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন। কক্সবাজার সৈকতে এবারই প্রথম এই জাতের জেলিফিশ ভেসে আসতে দেখা যায়। এর আগে পটুয়াখালীতেও এই জাতের জেলিফিশ ভেসে আসার খবর পাওয়া যায়।

 

 

তবে তিনি বলেন, সৈকতে ভেসে আসা মৃত জেলিফিস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এদের কর্ষিকায় মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোন বিষ নেই। পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ প্রজাতির জেলিফিস চিহ্নিত হয়েছে যার অধিকাংশই মানুষের শরীরের বিষ ক্রিয়া করে এমনকি কিছু কিছু জেলিফিসের সংস্পর্শে আসলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

 

বোরির মহাপরিচালক বলেন, আমাদের সৈকতে এখন পর্যন্ত যে দু’টি প্রজাতির জেলিফিসের ব্লুম লক্ষ্য করা গেছে সেগুলির কোনটিই বিষাক্ত নয় এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। এসব জেলিফিস খালি হাতে স্পর্শ করলেও কোন ক্ষতিকর প্রভাবের সম্ভাবনাই নাই। ফলে পর্যটকদের আতঙ্কিত হবারও কিছু নেই। পরবর্তী জোয়ারে এসব মৃত জেলিফিসের অধিকাংশই আবার সাগরে ভেসে যাবে। এদের শরীরে প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ পানি থাকায় সৈকতে আটকা পড়া জেলিফিসের মধ্যে যেগুলো পরবর্তী জোয়ারেও ভেসে না গিয়ে থেকে যাবে সেগুলোও ৭/৮ ঘণ্টার মধ্য সৈকতের বালিয়ারীতে মিশে যাবে এবং লাল কাঁকড়াসহ সৈকতের বালিয়ারীতে বসবাস করা অপরাপর সামুদ্রিক প্রাণীরা এদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবে।

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা প্রশাসনের বীচ কর্মী মাহবুব আলম বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সামুদ্রিক জোয়ারের হঠাৎ শত শত মরা জেলিফিশ ভেসে আসতে দেখা যায়। এর আগে গতবছর ৩ ও ৪ আগস্ট, ১১ ও ১৩ নভেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর এভাবে শত শত মরা জেলিফিশ ভেসে আসে।  জেলিফিশ স্থানীয়ভাবে ‘নুইন্না’ নামে পরিচিত। এটি খাদ্য ছাড়াও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF