চট্টগ্রাম, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪ , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রোজা শুরু হতেই কলকাতা নিউ মার্কেটে বাংলাদেশিদের কেনাকাটায় ধুম

প্রকাশ: ২৫ মার্চ, ২০২৩ ১১:০৫ : পূর্বাহ্ণ

শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। প্রায় এক মাস ধরে রোজা রাখবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তারপরে আসবে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর।

 

 

কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই কলকাতায় আসতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। মূলত ঈদের কেনাকাটাকে সামনে রেখেই তাদের এই আগমন। আর সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা নিউ মার্কেট। অনেকের কাছে এটি আবার ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামেও পরিচিত। স্বাভাবিক ভাবেই এই নিউ মার্কেট চত্বরে ভিড় জমিয়েছেন তারা। ন্যায্য মূল্যে হোটেল, কেনাকাটা বা খাওয়া-দাওয়ার জন্য বাংলাদেশিদের কাছে এই নিউমার্কেট আদর্শস্থল বললেও একেবারে ভুল বলা হবে না।

 

বাংলাদেশ থেকে সড়ক, রেলপথে কিংবা আকাশপথে কলকাতায় পা রেখেই নিউ মার্কেটের হোটেলে উঠেছেন পদ্মা পাড়ের পর্যটকরা। হোটেলে একটু বিশ্রাম নিয়েই কেনাকাটা করতে বেড়িয়ে পরেছেন অনেকেই। তারা বলছেন অতিরিক্ত ভিড় এড়াতেই রমজান মাস শুরুতেই কেনাকাটা করে নিতে চান।

বৃহস্পতিবার নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, এমন অনেকেই আছেন যারা পরিবার নিয়ে মেডিকেল চেকআপে বা চিকিৎসা করতে এসে ফিরতি পথে কেনাকাটা করে নিয়ে যাচ্ছেন।

 

বাংলাদেশের বাংলামটর থেকে এসেছেন মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া শান্ত। মূলত পরিবার নিয়ে কলকাতায় এসেছেন মেডিকেল চেকআপে করাতে। কিন্তু স্ত্রীর পছন্দ কলকাতা থেকে কেনাকাটা করা। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে স্ত্রীর মতামতকে প্রাধান্য দিয়েই কলকাতায় কেনাকাটা শুরু করেছেন তিনি। তার অভিমত ‘বাংলাদেশে গেলেও আমাদের কিনতে হবে, সেক্ষেত্রে দাম একটু বেশি হলেও কলকাতা থেকে কিনে নিয়ে যাওয়াই ভালো।’

শান্ত’এর স্ত্রী রুনা জানান ‘আমরা এসেছি ডাক্তার দেখাতে কিন্তু যেহেতু সামনে ঈদ, কেনাকাটা করতেই হবে। তাই ভাবলাম কলকাতা থেকেই কেনাকাটা করি।’

ঢাকা থেকে আসা জাহিদ হাসান নামে এক পর্যটক জানান ‘আমি মূলত চিকিৎসা করাতে এসেছি। ভাবলাম যে এখান থেকে কিছু কেনাকাটা করে নিয়ে যাই, তাই আসা।’

 

 

এদিন উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও এক সপ্তাহ আগে তিল ধরনের জায়গা ছিল না নিউ মার্কেট চত্বরে। হোটেলের একটা রুমের জন্য হাপিত্যেশ করতে দেখা গেছে অনেককেই। ভাগ্য ভাল থাকলে বেশি দাম কিংবা বা বকশিস দিয়ে ঘর পেয়েছেন। অনেকে আবার ঘর না পেয়ে কলকাতা ছেড়ে সুদূর চেন্নাই ঘুরতে চলে গেছেন, এমন মানুষেরও দেখা মিলেছে। যদিও কেবলমাত্র ভাষা আর সংস্কৃতির টানে ফের কলকাতার নিউ মার্কেট ফিরে এসেছেন।

 

বাংলাদেশ থেকে কলকাতা এসেছেন আড়ং-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার নাসিরাল হোসেইন। তার দাবি নিউমার্কেট এলাকায় অন্তত ত্রিশটি হোটেল দেখেছেন তিনি। পরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে হোটেল পান নাসিরাল।

 

তিনি জানান ‘গত ১৫ মার্চ কোলকাতায় আসি। হোটেলে অনেক সমস্যা হয়েছিল, প্রায় ৩০ টার মতন হোটেল দেখেছি। অতিরিক্ত বকশিশ দিয়ে, ভাড়া বাড়িয়ে অবশেষে একটা ঘর পাই। গত বছরের তুলনায় এ বছর খাবারের দাম কিছুটা বেশি বলেও জানান তিনি। যদিও খাবারের মান বেশ ভালো।

 

 

অন্যদিকে প্রথমবার কলকাতায় এসে বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো কুষ্টিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিন্টু ফকিরের। কলকাতায় জায়গা না পেয়ে সোজা চেন্নাই চলে যান তিনি। ফকির জানান ‘গত ১০ মার্চ আমরা যখন কলকাতায় আসি তখন হোটেলের সমস্যা ছিল। হোটেলের রুম না পেয়ে আমরা ফ্লাইটে চেন্নাই চলে যাই। পরে চেন্নাই থেকে ফের কলকাতায় আসার পর এবার আর অসুবিধা হয়নি। হোটেলের রুমে পাওয়া গেছে, কেনাকাটাও করেছি।’

 

কেউ কেউ বলছেন হোটেল না পাওয়ার কারণ হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে একই সময়ে অত্যধিক পরিমাণে পর্যটক চলে আসা।

 

 

ফরিদপুরের বাসিন্দা সুলতান খান বলেন ‘বৃহস্পতিবারই তার এক বন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসেন। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা হোটেল পাওয়া যায়। কিন্তু ১২০০ রুপির বদলে ১৮০০ রুপি গুনতে হয়েছে।’

 

 

শওকত হোসেন অন্য এক পর্যটক জানান ‘হোটেলে প্রচণ্ড ভিড় এবং এই সেটা মূলত বাংলাদেশিদের কারণেই। রমজানকে সামনে রেখে এত পরিমাণ বাংলাদেশী কলকাতায় কেনাকাটা করার জন্য এসেছেন যে জামা কাপড়, জুতার দোকানে ঢোকার মত পরিস্থিতি নেই। আমরা নিজেরাও অতিরিক্ত বকশিস দিয়ে হোটেলের রুম পেয়েছি। তার অভিমত ভিড় বাড়ার সুযোগ নিয়ে হোটেলের দাম বাড়ে, খাবারের দাম বেড়ে যায়।’

 

তবে বাংলাদেশীদের আগমনে সবচেয়ে বেশি খুশি বিক্রেতারা। কোভিডের কারণে গত দুই বছরের বেশি সময় ব্যবসায় মন্দা ছিল, এবার তারা কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন- এমন আশা করছেন বিক্রেতারা।

 

 

নিউ মার্কেটের বিখ্যাত পোশাক বিপণী সংস্থা ‘মিলন’। নিউ মার্কেট এলাকায় বাংলাদেশীদের প্রথম পছন্দের দোকানের মধ্যে এটি অন্যতম। তাদের কথা মাথায় রেখে পোশাকের বৈচিত্র্য এনেছেন বিক্রেতারা।  মিলন-এর কর্মকর্তা রাজেশ কুমার তিওয়ারি জানান, করোনার কারণে গত দু বছরে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলাম। আমাদের গ্রাহকদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ বাংলাদেশী, ২০ ভাগ স্থানীয়।

 

মাস দেড়েক আগে প্রচুর কাস্টমার ছিল। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর দুই তিন দিন একটু হালকা থাকবে, এরপর থেকে ভিড় ক্রমশই বাড়বে বলে জানান তিনি।

 

তিনি আরও জানান, আগে কেবলমাত্র ঈদ উপলক্ষেই বাংলাদেশে পর্যটকরা কলকাতায় আসতেন। তবে এখন দিন পাল্টেছে। বছরের বিভিন্ন সময়েই তারা আসেন এবং কেনাকাটা করেন।’ তার আশা গত বছরের তুলনায় এ বছর তাদের বিক্রি বেশি হবে।

 

 

কিন্তু বাংলাদেশ ছেড়ে কেন কলকাতায়? এই প্রশ্নের উত্তরে কলকাতার একটি পোশাক বিপণীতে কেনাকাটা করতে পুরান ঢাকা থেকে আসা জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান ‘কলকাতার কাপড়ের গুণগত মান ভালো ও টেকসই। ফলে কলকাতায় থেকেই কেনাকাটা করি। রমজান মাস শুরুর পরে মার্কেটে ভিড় হয়ে গেলে ঘোরা সম্ভব নয়। তাই একটু আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে রাখছি।’

 

সূত্র – চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF