চট্টগ্রাম, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪ , ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যে কারণে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি কার্যকর পেছাতে পারে

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ৪:১৮ : অপরাহ্ণ

দেশের শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি কার্যকর ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ার কথা রয়েছে। তবে শিল্প উদ্যোক্তারা গ্যাসের দর পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে দাম কার্যকরের সময় দুই মাস পেছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি গ্যাসের পুনর্নির্ধারিত দাম আগামী এপ্রিল থেকে কার্যকরের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

ব্যবসায়ীদের অনুরোধ সরকার বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, সরকার গ্যাসের বর্ধিত দাম মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা ভাবছে। তবে আমরা এটি আরো এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছি। একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিগগিরই ঘোষণা দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, শিল্প মালিকদের অতিরিক্ত কোনো অর্থ জমা করতে হবে না।

গত ১৮ জানুয়ারি হঠাৎ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভর্তুকি কমানো এবং রাজস্ব ঘাটতি কাটানোর লক্ষ্যে গ্যাসের দাম ১৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন দামগুলো কার্যকর হওয়ার কথা ছিল আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।

এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৫.০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। ভারি শিল্পের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ১১.৯৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা হয়েছে। মাঝারি শিল্পের জন্যও নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১.৭৮ টাকা থেকে থেকে ৩০ টাকা।

অন্যদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ২৬.৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০.৫০ টাকা করা হয়েছে। তবে আবাসিক খাতসহ সার ও চা উৎপাদনের কাজে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের একটি বৈঠকে আমরা একটি ইঙ্গিত পেয়েছি বর্ধিত দাম মার্চ পর্যন্ত পেছানো হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন, শিল্প মালিকদের অতিরিক্ত কোনো অর্থ জমা করতে হবে না। যদি তারা সেই টাকা নেন, তাহলে প্রতিটি মিল মালিককে অতিরিক্ত ৮-১০ কোটি টাকা জমা দিতে হবে।

এদিকে, আট মাসের বিরতির পর সরকার এখন যেকোনো সময় বিশ্ববাজার থেকে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) আমদানি পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।

Print Friendly and PDF