চট্টগ্রাম, রোববার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩ , ১৫ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডিসিদের উদ্দেশে ২৫ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১২:৪৫ : অপরাহ্ণ

তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ (মঙ্গলবার)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনদিনব্যাপী এই জেলাপ্রশাসক সম্মেলনের উদ্ধোধনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ডিসিদের উদ্দেশে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। বিশেষ করে লক্ষ্য রাখার জন্য, অনেক কাজ আপনারা করেন তার মধ্যে যেমন খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন। কোথাও যেন পতিত জমি না থকে। অনাবাদি জমিতে আবাদ করতে হবে।

এছাড়াও জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে ২৫টি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা  প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

১. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন। কোথাও যেন পতিত জমি না থকে। অনাবাদি জমিতে আবাদ করতে হবে। ‘বাংলাদেশে প্রচুর অনাবাদি জমি রয়েছে। সেগুলো যদি আমরা চাষের উপযোগী করতে পারি, তাহলে আমাদের খাদ্য উৎপাদন ও বহুমুখীকরণ করতে কোনো সমস্যা হবে না। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ’

২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। সাধারণ মানুষকে এই ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

৩. সরকারি অফিসে নির্দিষ্ট সময়ে মানুষজন যেন সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন সরকারি কর্মচারীদের ব্রত হয়।

৪. সরকারি তহবিল ব্যবহার কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে।

৫. এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

৬. দেশে একজনও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ ও ভূমিহীনদের জন্য কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত করতে হবে। জমি আর ঘর দিলেই হবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে না।

৭. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে পাঠদান কার্যক্রমে মান-উন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

৮. কমিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কল্যাণ কেন্দ্রসমূহ যেন কার্যকর থাকে তা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৯. শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীল চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নাগরিকদের সুস্থ জীবনের জন্য খেলার মাঠ ও পার্ক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

১১. পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিল্পবের সুযোগ নিতে উচ্চপ্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নিতে হবে।

১২. সরকারি দপ্তারের ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। নিজ নিজ জেলার উন্নয়ন ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে হবে।

১৩. জনসাধারণের মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তির ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপব্যবহার, গুজব রোধে উদ্যেগ নিতে হবে।

১৪. আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি যেন অবনতি না হয় সেজন্য নজরদারি বাড়াতে হবে।

১৫. মিথ্য গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে।

১৬. মাদক জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। জনসচেতনা তৈরির উদ্যেগ নিতে হবে।

১৭. বালবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল ও নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

১৮. দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম সংকট রোধ ও সরবরাহ ঠিক রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

১৯. সরাকরি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে।

২০. নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। জলাবদ্ধতার জন্য যেন আবাদ ব্যাহত না হয় সেজন্য লক্ষ্য রাখতে হবে।

২১. বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় তাল গাছ রোপণ করতে হবে।

২২. পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও রক্ষণাভেক্ষণে বিশেষ উদ্যেগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে।

২৩. জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যসমূহের প্রচার ও বিপনন ব্যান্ডিং করতে হবে।

২৪. জনস্বার্থকে সবকিছুর উর্ধ্বে রেখে সেবার মনোবত নিয়ে সরকারি দপ্তরগুলো যেন পরিচালিত হয় সে লক্ষ্যে নজরদারি বাড়াতে হবে।

২৫. জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমসমূহ যথাযথ সমান্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের সবাইকে ব্রতী হতে হবে।

Print Friendly and PDF