চট্টগ্রাম, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ১৮ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রতি বছর শীত যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে তাদের জীবনে

প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১২:২৪ : অপরাহ্ণ

তীব্র শীতে নাজেহাল জনজীবন। তাপমাত্রার এ ক্রমবর্ধমান পতনের মুখে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে রাজধানীর ছিন্নমূল আর শ্রমজীবী মানুষ। শীত নিবারণের মতো গরম কাপড় না থাকায় তাদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। বৃদ্ধ আর শিশুদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগব্যাধিও।

অসীম দুর্ভোগের শিকার এসব মানুষের মধ্যে একজন চাঁদপুরের রহিমা বেগম। অনেকদিন ধরেই রাজধানীতে থাকেন তিনি। দিনে বাসা-বাড়িতে কাজ করেন। এই প্রচণ্ড শীতে রাতের ঢাকায় গরম কাপড়ের অভাবে ফুটপাতে কাটাচ্ছেন নির্ঘুম রাত। মানুষ দেখলেই কম্বলের আশায় ছুটে যান। কিন্তু লাভ হয় না। জীবনযুদ্ধের সাথে শীত নিবারণের সংগ্রামে এখন ভীষণ ক্লান্ত তিনি।

একইভাবে একটি কম্বলের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন ৭০ বছর বয়সের রজব আলী। রাজধানীর বিক্রমপুরে থাকেন তিনি। রজব আলী জানালেন, সারা দিন কঠিন পরিশ্রমের পর সন্ধ্যায় ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসে। কিন্তু ঘুমানোর উপায় নেই। এমনিতেই ঠাণ্ডা আর রাত থেকে শুরু হয় হিমশীতল বাতাস। রাত জেগে তাই একটু উষ্ণতার খোঁজার সংগ্রাম চলে।

রাতের নগরীতে একটু চোখ বোলালেই দেখা যায় ছিন্নমূল মানুষের এমন অবর্ণনীয় কষ্টের চিত্র। ফুটপাতে শুয়ে সহায়-সম্বলহীন এসব মানুষ ঘুমানোর চেষ্টা করেন হালকা বিছানা পেতে, কেউবা বিছানা ছাড়াই। আবার গাছের তলায়, ব্রিজের নিচেও ঠাঁই নেন অনেকে। তাদের কেউ শ্রমজীবী, কেউবা নিতান্তই অসহায়।

হাড় কাঁপানো এ ঠান্ডায় ন্যূনতম গরম কাপড়ও নেই অনেকের। কখনও কখনও ব্যক্তি বা বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। আবার বিতরণ করা শীতবস্ত্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুবই নিম্নমানের হওয়ায় শীত নিবারণে সেগুলো খুব একটা কাজে আসে না বলেও জানান অসহায় মানুষগুলো। ফলে প্রতি বছরই তাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে ফিরে আসে শীত।

Print Friendly and PDF