চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ১৯শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শালিখায় ১৩০ মেট্রিক টন চাল গায়েব, কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:০৪ : অপরাহ্ণ

মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া সরকারি খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আড়পাড়া সরকারি গুদাম থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা মূল্যের ১৩০ মেট্রিক টন চাল পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান শালিখা থানার ওসি বিশারুল ইসলাম।

শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

শালিখা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালমা চৌধুরী বাদী হয়ে শফিকুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান, শালিখা থানার ওসি বিশারুল ইসলাম।

গত নভেম্বরের মাসে আড়পাড়া সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি চাল পাচারের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুস সালামের নির্দেশে মাগুরা জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ কুমার মজুমদার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত চলাকালে প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ১৩০ মেট্রিক টন চাল পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি।

পরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই গুদাম সিলগালা করেন। এছাড়া খাদ্য বিভাগের নির্দেশে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালমা চৌধুরী বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পুরো ঘটনা তদন্তে মাগুরা জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কুষ্টিয়ার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একজন সদস্য দিয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বিভাগের একজন কর্মচারী জানান, শালিখা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাল পাচার করে খোলা বাজারের সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে আসছেন। এ ঘটনা তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালমা চৌধুরী যোগসাজশ করে বিষয়গুলো ধামাচাপা দিয়ে গোপন রেখেছেন।

গুদাম সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি ১৫ দিন পর পর গুদাম পরিদর্শন করার নিয়ম থাকলেও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গুদাম পরিদর্শন না করেই স্টক রেজিস্ট্রারে সই করে দেন। এমনকি, গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত খাদ্যের মজুদ ঠিক আছে বলেও তিনি স্বাক্ষর করেন।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নজরে আসে। পরে গুদাম কর্মকর্তা শফিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করে তদন্ত কমিটি গঠন করলে সালমা চৌধুরী নিজেও বিপাকে পড়েন।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ কুমার মজুমদার বলেন, গুদাম সিলগালা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কে জড়িত সেটা তদন্ত কমিটি এবং তদন্তকারী সংস্থা খুঁজে বের করবেন। যারাই জড়িত থাকুক নিশ্চয়ই আইনের আওয়তায় আসবেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবেন।

শালিখা থানার ভার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিশারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আড়পাড়া সরকারি খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে করে আদালতে সোপর্দ করেছে। সংশ্লিষ্ট  দায়িত্বশীল বিভাগ বিষয়টি  তদন্ত করে দেখবে।

 

সূত্র:চ্যানেল২৪

Print Friendly and PDF