চট্টগ্রাম, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ বিনিয়োগ-সোর্সিংয়ের সর্বাধিক অনুকূল গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৫২ : পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে বিনিয়োগ এবং সোর্সিং-এর জন্য সর্বাধিক অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতি একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত সুবিধা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।

রোববার বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক-২০২২’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণই আমাদের সাহসের উৎস। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হচ্ছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার। এদেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের নিজস্ব বাজার তৈরি হচ্ছে। শুধু রফতানি করলেই চলবে না। নিজের দেশের ভেতরেও বাজার সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পদধ্বনি শুনছি আমরা। যারা শ্রম দেয় তাদের আমরা আরো উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে চাই। বিজ্ঞানের কারণে প্রযুক্তির নতুন নতুন আবির্ভাবে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযুক্ত করে আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং উদ্যোক্তাও সৃষ্টি করছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের দেশে-বিদেশে দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন পড়বে। সেজন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সরকার প্রধান বলেন, আমার রাজনীতি এদেশের কৃষক, শ্রমিক ও মেহেনতি মানুষের জন্য। তাদের কল্যাণই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিপুল শ্রমশক্তির দক্ষতা, যোগ্যতা এবং মেধা কাজে লাগাতে হবে। আমরা সাড়ে ১৬ কোটির বেশি মানুষ নিজেদের খাদ্য উৎপাদন নিজেরা করবো। আমরা কারো কাছে ভিক্ষা করে চলতে চাই না। সেজন্য ফসলি জমি রক্ষা করা, যততত্র শিল্প গড়ে না তোলা এবং পরিবেশ বান্ধব শিল্প গড়ে তোলার ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আমি দেশের ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানাবো। আপনারা বিদেশি পার্টনার খুঁজে নেন। দেশের ব্যবসায়ীদের সেই সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে, ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া আমরা ওয়াটারওয়েজ, এয়ারওয়েজ, রেলওয়েসহ সবকিছুতে উন্নয়ন করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ তহবিল, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান, রফতানিমুখী তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পের দুস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমসহ ২৮টি প্যাকেজের আওতায় অতি স্বল্প সুদে ২ দশমিক ৩৭ ট্রিলিয়ন টাকার ঋণ বরাদ্দ করেছি, যা ২০২২ অর্থবছরের মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সময়োচিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের ফলে আমরা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সব বাধা উত্তরণে সফল হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকের রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নগদ সহায়তাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করছি। ওয়্যারহাউজ সুবিধায় বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুবিধা; ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলার সুবিধা; হ্রাসকৃত শুল্কে মেশিনারিজ আমদানি এবং রফতানিমুখী শিল্পের অনুকূলে ‘এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) থেকে অতি অল্প সুদে কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। ফলে ২০২১-২২ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে অর্জিত হয়েছে ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে তৈরি পোশাক থেকে রফতানি আয় হয়েছে ১৩ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জিডিপিতে রফতানি খাতের অবদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগত অর্থবছরে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য ও সেবাকে দীর্ঘমেয়াদি কর প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে গ্লোবাল ব্র্যান্ডে পরিণত করার লক্ষ্যে রফতানির নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং পণ্যের বৈচিত্রকরণ ও নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে কর হার সাধারণ কারখানার জন্য ১২ শতাংশ এবং গ্রিন কারখানার জন্য ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে আজ বিশ্বসেরা ১০টি পরিবেশবান্ধব কারখানার মধ্যে ৯টিই বাংলাদেশে অবস্থিত।

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুটি কফি টেবিল বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন, যার ওপর বিজিএমইএ চলতি বছরের শুরু থেকে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে পোশাক রফতানিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪ জন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে দেশের পোশাক খাতের অগ্রগতি এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক পৃথক দুটি ভিডিও চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।

Print Friendly and PDF