চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বুয়েট শিক্ষার্থী হত্যা: মোটিভ সম্পর্কে এখনও অনিশ্চিত পুলিশ

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর, ২০২২ ৩:১৭ : অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যার ঘটনায় মোটিভ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ফলে মরদেহ উদ্ধারের পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি তারা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, মাদক কিনতে গিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নিহত হয়েছেন- এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য নেই। কে বা কারা কেন তাকে খুন করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, পুরো বিষয়টি উদ্‌ঘাটন শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। এসময় পরশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


ডিবিপ্রধান হারুন বলেন, ‘ফারদিনের মোবাইলের ডাটা এনালাইসিস ও বিভিন্ন জায়গায় সে যার সঙ্গে কথা বলেছে সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে মনে হচ্ছে ঢাকা শহরের কোনো এক জায়াগায় খুন হতে পারে। মোবাইলের লোকেশনে আমরা নারায়ণগঞ্জও পেয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে তদন্তের স্বার্থে কংক্রিট কিছু বলতে পারছি না।’

হারুন অর রশিদ জানান, বুশরাসহ আরও কয়েকজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনা এবং রহস্য উন্মোচনে ডিবি কাজ করছে। এমন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, মাদকের সঙ্গে ফারদিনের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উঠেছে তা উড়িয়ে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, ফারদিন মাদকের সঙ্গে কখনোই সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি খুবই মেধাবী ছিলেন।


ফারদিন নূর পরশ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তার বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরা ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। তার কাছ থেকেও হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট সুস্পষ্ট কোনো তথ্য এখনও মেলেনি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে বর্তমানে শত্রুতাবশত, ডিবেটিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যা, রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও প্রেমঘটিত কারণসহ আরও কিছু বিষয় সামনে এনে তদন্ত চলছে। এছাড়া পেশাদার মাদক কারবারিদের হাতে ফারদিন খুন হতে পারেন এমন সন্দেহও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তিগত তদন্ত ও সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

Print Friendly and PDF