চট্টগ্রাম, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ , ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসে সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ হবে ২০২২ সালেই

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর, ২০২২ ৩:৩৩ : অপরাহ্ণ

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। গত বছরের তুলনায় ২০২২ সালে কার্বন নিঃসরণ বাড়বে প্রায় এক শতাংশ। এর মাধ্যমে ইতিহাসে সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ করতে যাচ্ছে বিশ্ব। জলবায়ু নিয়ে গবেষণা করা নরওয়ে ভিত্তিক ইন্সটিটিউট সিসোরো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (১১ নভেম্বর) জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭-এ প্রতিবেদনের ফলাফলটি প্রকাশ করেছে নরওয়ে ভিত্তিক ইন্সটিটিউটটি। প্রতিবেদনে সিসোরো জানায়, করোনা মহামারির পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের জন্য কয়লা, গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্যই চলতি বছরে সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরিত হতে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে সিসোরো জানায়, বনাঞ্চল ধ্বংসসহ চলতি বছরে কার্বন নিঃসরণ হবে ৪০০ কোটি ৬০ লাখ টন। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই হয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে।

এই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কার্বন নিঃসরণ ১.৫ শতাংশ ও ভারতে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষণকারী দেশ চীনে বাড়বে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে ইউরোপে। এ অঞ্চলে কার্বন নির্গমন কিছুটা হ্রাস পাবে।

শুক্রবার প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে সিসোরো বলছে, কার্বন নিঃসরণে এখনও সবার ওপরে রয়েছে কয়লা। ২০১৪ সালে কয়লা থেকে সর্বোচ্চ কার্বন নির্গত হয়। তবে চলতি বছরে ২০১৪ সালের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

অন্যদিকে তেল থেকে নির্গত কার্বনের পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে। এর কারণে বিজ্ঞানীরা বলছে, মহামারির পর বেড়েছে উড়োজাহাজ চলাচলও। মহামারির পর কার্বন নিঃসরণে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে এই সেক্টর। গত বছরের তুলনায় উড়োজাহাজ সেক্টর থেকে কার্বন নিঃসরণ দুই শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০২০ সালে কার্বন নিঃসরণ কমেছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত। তবে ২০২১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সবশেষ ১০ বছরে প্রতি সনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন নিঃসরনের পরিমাণ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েছে ভেলে জানিয়েছে, মিশরে চলছে জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭। ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু এ শীর্ষ সম্মেলনে জাতিসংঘ বলেছে, ২০২০ সালে মহামারির জন্য লকডাউনে কার্বন নিঃসরণ কমেছে। তবে পরবর্তী বছরে এই চিত্র পাল্টে যায়।

আল-জাজিরা বলছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ কমাতে সরকার, কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি ও তাদের কাজের মধ্যে বিরাট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

সিসোরোর পরিচালক গ্লেন পিটার্স বলেন, ‘মহামারির পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ব্যাপকভাবে জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হচ্ছে। আর ইউক্রেন যুদ্ধের পর কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। ’

এই প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক পির্টাস বলেন, ‘কার্বন নির্গমনের হার অনেক বেড়েছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। ২০১৫ সালের জলবায়ু চুক্তির থেকে ৫ শতাংশ বেশি কার্বন বর্তমানে নিঃসরিত হচ্ছে। ’

বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ সেলসিয়াস পর্যন্ত রাখতে চাইলে এ দশকে কার্বন নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে বলে আগে থেকেই সতর্ক করে আসছে বিজ্ঞানীরা। এর অর্থ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা যেন এতটা না বাড়ে যাতে তাপমাত্রা বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য এই দশকেই কার্বন নিঃসরণ সহনীয় পর্যায়ে আনা জরুরি। তবে সবশেষ এ গবেষণার তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ সেলসিয়াস পর্যন্ত ধরে রাখা ভীষণ চ্যালেঞ্জের।

আল-জাজিরা বলছে, এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়েছে ১.২ সেলসিয়াস। এতেই বৈরি আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে গোটা বিশ্ব। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যাচ্ছে।

Print Friendly and PDF