চট্টগ্রাম, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এবার কুড়িগ্রামে কালো ডিম দিচ্ছে হাঁস!

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর, ২০২২ ৪:৪৩ : অপরাহ্ণ

Kurigram-Black-Eag

কুঁচকুঁচে কালো ডিম দিচ্ছে পাতিহাঁস। এ পর্যন্ত দুই দিনে দুইটি ডিম দিয়েছে দেশি জাতের হাঁসটি। অবাক করা এই ডিমের দেখা মিলেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিম আলীর বাড়িতে। ওই ডিম দেখতে বাড়িটিতে ভিড় করছেন অনেকে।

নারায়নপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা পূর্ব নারায়নপুর পরামানিকপাড়ার বাহার আলীর ছেলে ইব্রাহিম। কুড়িগ্রাম মজিদা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। ছয় মাস আগে শ্বশুর বাড়ি থেকে উপহার পাওয়া পাঁচটি হাঁস পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়িতে দেখভাল করেন।

এরমধ্যে গত ২৯ অক্টোবর সকালে কুঁচকুঁচে কালো ডিম দেখে অবাক হন ইব্রাহিম। পরের দিনও সাদা ডিমের পরিবর্তে কালো ডিম দেয় হাঁসটি। এক কান দুই কান করে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে প্রতিবেশীসহ আশপাশের এলাকার লোকজন একনজরে কালো ডিম দেখতে ছুটে আসেন তার বাড়িতে।

ইব্রাহিম বলেন, স্ত্রী রেহেনা বেগমসহ ছয় মাস ধরে খুব যত্নে হাঁসগুলো পালন করছি। সবগুলো দেশি জাতের হাঁস। পাঁচটির মধ্যে একটি পুরুষ হাঁস। হাঁসগুলো শ্বশুর বাড়ি থেকে উপহার দিয়েছিল। দু’টি কালো রংয়ের হাঁস আছে। স্বাভাবিক খাবার দেয়া হয় হাঁসগুলোকে। শনিবার রাত থেকে একটি হাঁস ডিম দিচ্ছে। সবগুলো ডিমের রং কালো। রোববার বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা মিলে কৌতূহল নিয়ে ডিমটি বের করেন তারা। ওইদিনও কালো রংয়ের ডিম দেয় হাঁসটি।

ইব্রাহিমের ভাই আব্দুল মজিদ বলেন, কালো ডিমের খবর পেয়ে ছুটে আসি। ডিম দেখে অবাক হয়ে যাই। এর আগে এমন রংয়ের ডিম দেখা হয়নি।

ইব্রাহিমের ভাবি সাহিদা বেগম বলেন, হাঁসতো একই। অন্য হাঁসের মতো স্বাভাবিক। কিন্তু ডিম দিলো কালো।

ডিম দেখতে আসা ৭০ বছর বয়সী মোজাহার আলী বলেন, জীবনে প্রথম কালো ডিম দেখলাম। কিছু বুঝতে পারছি না।

প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, হাঁসের জরায়ুতে ইনফেকশন থাকলে এমন হতে পারে। এছাড়া ডিম তৈরির পিগমেন্ডের প্রয়োজনীয় পরিমাণ অনুপস্থিত থাকলেও এমনটা হতে পারে।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আশিকুজ্জামান বলেন, নারায়নপুরে হাঁসের কালো ডিম দেয়ার সংবাদ জেনেছি। এখনও দেখিনি। এটি বিরল ঘটনা। তবে এটা হাঁসের জরায়ু ইনফেকশন বা কম মাত্রার পিগমেন্টের কারণে হতে পারে।

Print Friendly and PDF