চট্টগ্রাম, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির দাম আকাশ চুম্বি, বৃষ্টিপাত কম হওয়াকে দায়ী করছেন চাষিরা

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর, ২০২২ ১০:২৩ : পূর্বাহ্ণ

পঞ্চগড় জেলায় এবার শীতকালীন শাক সব্জির দাম আকাশ চুম্বি। ইতিমধ্যে বাজারে বাজারে আসতে শুরু করেছে মুলা, ফুলকপি, বাধা কপি, টমেটো, গাজর, করলা, রববটিসহ নানা ধরনের শীতের সবজি। প্রতিটি শীতের সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বর্তমানে সিম বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০টাকা দরে, ফুলকপি ১শ’, বাধা কপি ৮০, গাজর ২শ’, করলা ৬০, শসা ৬০ এবং টমেটো ২শ’ টাকা কেজি দরে।

কৃষকরা বলছে, এবার বৃষ্টিপাত কম হবার কারণে শীতকালীন সবজির আবাদ কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি ও সিম চাষে বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দেয়ায় এসব ফসলের উৎপাদন কম হবার কথা জানিয়েছেন তারা।

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা, রতনিবাড়ী, বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মড়েয়া বড়শষি আটোয়ারীর উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়া খাওয়া, সর্দারপাড়া দেবীগজ্ঞ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ি, কালিগজ্ঞ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শড়িয়ালজোত, বিল্লাভিটা, শালবাহানহাট, এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সবজি চাষ হয়ে থাকে। এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর চলে যায় রাজধানী ঢাকায়।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজি চাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর সবজির আবাদ করে তিনি ২০ লাখ টাকা আয় করে থাকেন। সিম করলা, ঝিঙ্গা, শসা, বরবটি, লাউ এবং কচুর লতি চাষ করছেন তিনি। চলতি বছরে সময়মত বৃষ্টিপাত আশাতীতভাবে না হবার কারণে এবার সবজি চাষ ভাল হয়নি, সবজি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় উৎপাদন কিছুটা হলেও কম হবে। প্রতি বছর আগাম সবজি বাজারজাত করতে পারলেও এবছর একটু দেরি হবে। তবে সবজির চাহিদা থাকায় দাম ভাল পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

সদর উপজেলার ভাবরংঙ্গি গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, বাধা কপি, ফুল কপি, ব্রকলি এবং বেগুনের আবাদ ভাল হয়েছে। এবছর এসব শীতকালীন সবজি আগাম বাজারজাত করতে না পারায় লাভ কিছুটা কম হবে।

বৃষ্টিপাতের অভাবে এবছর জেলায় সবজির সরবরাহ দেরিতে হওয়ায় বর্তমানে পাশ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও জেলাসহ জয়পুর হাট বগুড়া থেকে সবজি আসায় স্থানীয় বাজার চড়া।

বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানায়, এ অঞ্চলে সবজির আবাদ বরাবরই ভাল। এ বছর পোকামাকড়ের কারণে শীতকালীন সবজি বিশেষ করে সিম, ফুল কপি, বাঁধা কপির ফলন কিছুটা কম। তার পরেও চাষিরা বিভিন্ন বালাই নাশক ব্যবহার করে শেষ সময়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, অনান্য বছরের চেয়ে এবার সময় উপযোগী বৃষ্টিপাত কম হবার কারণে সবজি চাষে চাষিদের কিছুটা বেঘাত পেতে হয়। শেষ সময়ের বৃষ্টিপাতে চাষিরা তা পূরণ করে নিয়েছে। সে কারণে এবার আগাম  সবজির সরবরাহ বাজারে নেই। তবে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যেই সবজির প্রর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।

Print Friendly and PDF