চট্টগ্রাম, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ , ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শ্যালো ইঞ্জিনে ত্রুটি ছিলো : নৌকাডুবি থেকে বেঁচে ফেরা মানিক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:৪৩ : পূর্বাহ্ণ

মানিক চন্দ্র রায় (২৮) তার তিন বছর বয়সি বড় ভাইয়ের মেয়ে ভাতিজি অঙ্কিতা রানীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন মহালয়া ধর্মসভায়। করতোয়ার ওপারের বদেশ্বরী মন্দিরের ওই অনুষ্ঠানে যেতে চরে বসেন নৌকায়। কিন্তু নৌকা অপরপ্রান্তে পৌঁছানোর আগেই তলিয়ে যায় মাঝ নদীতে। এ ঘটনায় করতোয়ার পাড় মৃত্যুপুরী হলেও ভাতিজিকে নিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেন মানিক।

মানিক চন্দ্রের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের বটতলী এলাকায়। তিনি সেখানকার গুরুদাস চন্দ্র রায়ের ছেলে।

তিনি বলেন, বড়ভাই সন্তোষ রায়ের মেয়ে অঙ্কিতাকে নিয়ে ধর্মসভায় যাচ্ছিলাম। ঘাটে গিয়ে দেখি আমার মত আরো শতাধিক মানুষ সেখানে নদী পারাপারের জন্য নৌকার অপেক্ষায়। শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ওই নৌকাটি ঘাটে ভিড়লে আমি অঙ্কিতাকে নিয়ে নৌকার সামনে চলে যাই। আমার পেছনে হুরহুর করে পাড়ে থাকা সবাই ওঠে বসে নৌকায়। শ্যালো ইঞ্জিন চালু করে ঘাট ছাড়ে নৌকাটি। কিন্তু প্রায় ১০০ মিটার যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় শ্যালো ইঞ্জিন, এতে যাত্রীরা এক ধরণের ঝাকি পায়। পুনরায় ইঞ্জিন চালু করলে মাঝ নদীতে গিয়ে আবারও বন্ধ হয়। এভাবে একে একে তিনবার ইঞ্জিন বন্ধ হলে থেমে যায় নৌকাটি।

এক পর্যায়ে নৌকাটি দুলতে থাকে। আমি ভাতিজিকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ি পানিতে। সাঁতরে পাড়ে আসার চেষ্টা করি। পরে স্থানীয়রা ডিঙ্গি নৌকায় করে আমাদের উদ্ধার করেন।

এর আগে, গত রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়া ঘাট থেকে শতাধিক মানুষ শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় করে বদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘাট থেকে নৌকাটি কিছু দূর যাওয়ার পর দুলতে শুরু করে। এক পর্যায়ে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে উদ্ধার অভিযান শুরু করে প্রশাসন।

জানা গেছে, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা নৌকা যোগে নদী পার হচ্ছিলেন। তবে ৪০ থেকে ৫০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। একদিকে অতিরিক্ত যাত্রী, অপরদিকে ইঞ্জিনের ত্রুটি এই দুই কারণে নদীর মাঝে গিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। সে সময় অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়কে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করে জেলা প্রশাসন।

মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আনসার মো. রেজাউল করিম বলেন, আমিও নদী পারাপারের জন্য নৌকার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় আমি নৌকার জন্য অপেক্ষায় থাকি। তবে নৌকাটি ঘাট ছেড়ে কিছুদূর যাওয়ার পর এর শ্যালো ইঞ্জিন বন্ধ হয় এবং পুনরায় চালু করার সময় ঘাট থেকে কিছু একটা ভাঙার শব্দ শুনেছি।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় বলেন, আমরা নৌকাডুবির ভিডিও সংগ্রহ করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেঁচে ফেরাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সব ধরণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগে কিছু বলতে চাচ্ছিনা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় ব্রিফ করবেন। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথার ফাকে তিনি নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনকেই দায়ী করেন।

Print Friendly and PDF