চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২ , ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে নতুন রাজা তৃতীয় চার্লসের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৬:১৮ : অপরাহ্ণ

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর নতুন রাজা হলেন তৃতীয় চার্লস। জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে তিনি আজীবন দেশবাসীর সেবা করার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে, ইরাক যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। ইরাকে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ায় তিনি বুশকে ‘ভয়ঙ্কর’ এবং ব্লেয়ারকে অদূরদর্শী বলে মনে করতেন।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা’র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কোনো ধরনের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই চার্লস উপসাগরীয় রাজ্যগুলোর শাসক পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

তিনি ইসরায়েলি দখলদারিত্বে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রতিও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। আবার ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। কখনো কখনো নিজের সংস্থার জন্য নগদ অর্থ নিয়ে কেলেঙ্কারিও বাঁধিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের আরব বসন্ত বিদ্রোহের পর চার্লস মধ্যপ্রাচ্যের আটটি রাষ্ট্রের সঙ্গে শীর্ষনেতাদের সঙ্গে ৯৫টি বৈঠক করেছেন। আবার গত এক দশকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রের দেশগুলোর কাছে সাড়ে ১৪ বিলিয়ন পাউন্ডের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তার ভেতর অন্যরকম সহানুভূতি কাজ করতো বলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে তার প্রথম সরকারি সফরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অধীনে ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ ও কষ্ট দেখে আফসোস করেছিলেন।

বেথলেহেমে বক্তৃতার সময় চার্লস বলেছিলেন, এটি আমার সবচেয়ে প্রিয় কামনা, ভবিষ্যৎ সমস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সমতা নিয়ে আসবে। ফিলিস্তিনিদের উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনয়নে সক্ষম হবে।

সেই সময়ে স্কাই নিউজ বলেছিল, ভাষণটি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে রাজপরিবারের একজন সদস্যের সমর্থনের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী। অন্যদিকে চার্লসের অফিসের সহযোগিতায় রবার্ট জবসনের লেখা বই থেকে জানা গেছে, চার্লস ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরাক আক্রমণের পক্ষে ছিলেন না।

তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের যুদ্ধের সমর্থনের কারণে তিনি চরম হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের প্রশাসনকে তিনি ‘ভয়ঙ্কর’ বলে মনে করতেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের দূরদর্শিতার যথেষ্ট অভাব ছিল বলে তিনি মনে করতেন।

তবে গত বছর লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি তদন্তে জানা যায়, চার্লসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাইকেল ফসেট সৌদি বিলিয়নেয়ার মাহফুজ মারেই মুবারক বিন মাহফুজকে রাজকীয় সম্মান এবং এমনকি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য কাজ সমন্বয় করেছিলেন। এ জন্য মাহফুজ চালর্সের প্রতিষ্ঠানে ১৫ লাখ পাউন্ড দান করেছিলেন, যা নিয়ে গত বছর বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তাছাড়া নিজের চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গের কারণেও বেশ কয়েকবার বিতর্কের মুখে পড়েছেন তিনি।

Print Friendly and PDF