চট্টগ্রাম, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২:৩৪ : অপরাহ্ণ

দিনাজপুরের দাইনুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিনহাজ (১৯) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে পাঁচ শুঁটকি ব্যবসায়ী দাইনুর বিওপির ৩১৫ নাম্বার মেইন পিলারের সীমান্তের কাছে গেলে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। এতে মিনহাজ নিহত হন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই বাংলাদেশি।

মিনহাজের মরদেহ ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর তেলিয়াপাড়া এলাকায় রয়েছে। পুলিশের দাবি, মাদক আনাকে কেন্দ্র করে এই গুলি চালিয়েছে বিএসএফ।

বাংলাদেশি যুবক নিহতের বিষয়ে বিএসএফ বলছে, রাতে বিওপি হরিহরপুর সীমান্তে বিএসএফের টহল দল দায়িত্ব পালন করছিল। এসময় ৯-১০ জন বাংলাদেশি চোরাচালানকারী সীমান্তে মাদক আনতে আসে। তাদের থামানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। ওই চোরাকারবারীরা বরং বিএসএফ জওয়ানদের একজনকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে। তখন সহকর্মীকে চোরাচালানকারীদের হাত থেকে রক্ষ করতে স্টান গ্রেনেড বা শব্দ বোমা নিক্ষেপ। ক্ষিপ্ত হয়ে চোরাকারবারীরা বিএসএফের রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে এক জওয়ান আত্মরক্ষায় গুলি ছুড়ে। গুলিটি জওয়ানের রাইফেল ধরে থাকা চোরাকারবারীকে সরাসরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলির শব্দে বাকিরা পালিয়ে যায়।

আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি তারের কাটার, একটি লোহার রড, ০৩টি কচ্ছপের চামড়ার প্যাকেট, ৫০ বোতল ফেনসিডিল ও ০২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুরো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানায় বিএসএফ।

এ দিকে ১০ নং কমলপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিব সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পতাকা বৈঠকের পর লাশ হস্তান্তর করা কথা রয়েছে।

নিহত মিনহাজ সদর উপজেলার ভিতরপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। নিখোঁজ দুই ব্যক্তি হলেন- উপজেলার খানপুর এলাকার লতিফুল ইসলামের ছেলে এমদাদুল (২৮) ও একই এলাকার সালমানের ছেলে সাগর (২০)।

মিনহাজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএসএফ জানিয়েছে, মিনহাজসহ অন্যরা মাদক দ্রব্য নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরছিলেন। এসময় সীমান্তে বিএসএফ গুলি চালালে মিনহাজ নিহত হয়। ’

দাইনুর বিজিবি বিওপির নায়েক সুবেদার আক্তার হোসেন বলেছেন, এ বিষয়ে বিএসএফের কাছে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। বিএসএফ চিঠির জবাব দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ আনা হবে।

বিজিবির একজন সদস্য জানিয়েছেন, মরদেহ ভারতের গঙ্গারামপুর থানায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে।

Print Friendly and PDF