চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২ , ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে অবৈধভাবে কিডনি কেনা-বেচা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ জুলাই, ২০২২ ৫:৫১ : অপরাহ্ণ

অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে অবৈধভাবে কিডনি কেনা-বেচার কাজে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা শহিদুল ইসলাম মিঠুসহ চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বাকি চার সদস্য হলেন মো. সাইমন (২৮), মিজানুর রহমান (৪৪), আল মামুন ওরফে মেহেদী (২৭) ও মো. রাসেল হোসেন (২৪)।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।

গ্রেপ্তারকৃতদের থেকে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে চুক্তির অ্যাফিডেভিট কপি, ভুক্তভোগীদের পাসপোর্টসহ মোট ১৪ পাসপোর্ট, দেশি-বিদেশি মুদ্রা, কিডনি ক্রসম্যাচিংয়ের বিভিন্ন দলিল, বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, বিবিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের নকল সিলমোহর, স্ট্যাম্প, সিপিইউ, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

বুধবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন।

এ সময় র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কিডনি কেনা-বেচার এই চক্রের সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন। এরা তিন ভাগে কিডনি কেনা-বেচা করে থাকেন। তারা পাশের দেশে অবস্থানরত কিডনি কেনাবেচা চক্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ওই দেশে শতাধিক মানুষ পাঠিয়েছেন।

তিনি বলেন, চক্রের প্রথম গ্রুপ ঢাকা থাকে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রয়োজন, এই ধরনের বিত্তশালী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দ্বিতীয় দল প্রথম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের গরিব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ডোনারকে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় আনে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন, বাকি গ্রুপ প্রলোভনের শিকার ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রত্যাশী রোগীর সঙ্গে ব্লাড ম্যাচিং ও অন্যসব পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে। এসব পরীক্ষা-নিরিক্ষায় কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে পাসপোরর্ট, ভিসা প্রসেসিং ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভুক্তভোগী ডোনারকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, তারা চক্রটির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তারা প্রতিটি কিডনি স্থাপনের জন্য রোগী প্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা করে নিতো। বিপরীতে কিডনি ডোনারকে তারা মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেয়া হবে, এমন আশ্বাসে অগ্রিম ২ লাখ টাকা দিতেন। কিন্তু কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের পর ডোনারদের প্রতিশ্রুত অর্থ না দিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো।

Print Friendly and PDF