চট্টগ্রাম, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২ , ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পোষা কুকুরের কামড়ে প্রাণ হারালেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২২ ৫:১৭ : অপরাহ্ণ

পোষা কুকুরের কামড়ে প্রাণ হারালেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা

বাড়ির পোষা কুকুরের কামড়ে প্রাণ হারালেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। ঘটনাটি ঘটছে ভারতের লাখনউতে। দুই পোষা কুকুরকে নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন ৮২ বছরের ওই বৃদ্ধা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার নিজ বাড়িতেই পায়চারির সময় বারান্দায় একটি পিট বুলের কামড়ে গুরুতর জখম হন ওই বৃদ্ধা। তার শরীরে একাধিক জায়গায় কামড়ে মাংস তুলে নিয়েছে বাড়ির পোষা কুকুর। সে সময় বাড়িতে একটি ল্যাব্রাডর এবং একটি পিটবুল কুকুরের সঙ্গে ছিলেন তিনি।

ওই মহিলার নাম সুশীলা ত্রিপাঠি। অবসরপ্রাপ্ত ওই স্কুল শিক্ষিকা লাখনউয়ের কাইসার বাগের বাঙালি টোলার বাসিন্দা। তার ছেলে একটি জিমে ট্রেইনারের কাজ করেন। কুকুর দুটি তার ছেলেরই পোষ্য। যদিও ঘটনার সময় তার ছেলে বাড়িতে ছিলেন না।

ব্রাউনি নামের পিটবুল কুকুরকে অন্য কুকুরটির মতোই ভালবাসতেন সুশীলা। রোজ হাঁটাতে নিয়ে যেতেন। ঘটনার দিনও তিনি ওদের নিয়ে হাঁটতে বের হচ্ছিলেন। কিন্তু তখনই আচমকা ব্রাউনি ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ওপরে। আর একের পর এক কামড় বসাতে থাকে।

অসহায় পরিস্থিতিতে সুশীলা চিৎকার করলেও প্রথমে কেউই এগিয়ে আসেনি। কিছুক্ষণ পরে বাড়ির কাজের লোক টের পেলে তিনি দ্রুত সেখানে পৌঁছেন। ততক্ষণে রক্তে মাখামাখি হয়ে গেছে বৃদ্ধা। কাজের লোকের ফোনে খবর পেয়ে বাড়ি এসে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তার ছেলে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয়, মহিলার পেট, ঘাড়, বাহু এবং পায়ে মোট ১২ টি ক্ষত পাওয়া গেছে। এমনকি মহিলার পেটের মাংস ছিঁড়ে নিয়েছে কুকুরটি । অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই মহিলার মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্ষতচিহ্নগুলি পরীক্ষা করে বোঝা যাচ্ছে যত কুকুরটির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন ওই বৃদ্ধা ততই বেশি করে তাকে আক্রমণ করেছিল ব্রাউনি। পরে অবশ্য বৃদ্ধার ছেলেকে দেখে সে শান্ত হয়েই তার দিকে এগিয়ে আসে।

তবে এটাই প্রথম নয় এর আগেও ভারতের হরিয়ানায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পিট বুলের আক্রমণে নরেন্দ্র সিং নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

পিটবুল কুকুরটি ভারতে পোষা নিষিদ্ধ না হলেও বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে। বলা হয়, এ প্রজাতির কুকুর পোষার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে। কেননা পিটবুল অনেক সময়ই মানুষকে আক্রমণ করে। কখনও কখনও মালিককেও কামড়ে দেয় তারা। লাখনউয়ের ঘটনা পিটবুলের হিংস্র আচরণের আরেক নিদর্শন হয়ে রইল।

Print Friendly and PDF