চট্টগ্রাম, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ , ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলে নিল বিক্ষোভকারীরা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০২২ ৬:০৫ : অপরাহ্ণ

এবার শ্রীলঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের কার্যালয় দখলে নিল বিক্ষোভকারীরা। বুধবার (১৩ জুলাই) পুলিশের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে সমর্থ হয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার পলাতক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখল করে নেয় বিক্ষোভকারীরা। অনেকটা আকস্মিক বন্যার মতো জনতার স্রোতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলের পর রীতিমতো উদ্‌যাপনে মেতেছে বিক্ষোভকারীরা। ড্রাম বাজিয়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর নাম ধরে তালে তালে তারা স্লোগান দিচ্ছে: ‘রনিল পাগলা’, গোতা পাগলা।’

গত শনিবার (৯ জুলাই) ঠিক একইভাবে প্রেসিডেন্টের সরকারি ভবনে ঢুকে পড়ে লঙ্কান জনতা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আগেই পেছনের গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে বাসভবন ছাড়েন গোতাবায়া। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা গোতাবায়ার বাসভবনে অবস্থান করছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার একটি সরকারি টিভি চ্যানেলও দখল করে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বুধবার (১৩ জুলাই) শ্রীলঙ্কা রূপবাহিনী করপোরেশনের (এসএলআরসি) নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। এরপর সেখানে দুই বিক্ষোভকারী খবরও পড়ে। অবশ্য পরে চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সরকারি টিভি চ্যানেলের কার্যালয়ে প্রবেশ করে দুই আন্দোলনকারী। এর আগেই টিভির উপস্থাপক ও অন্য কলাকুশলীরা সরে যান। এরপর সেখানে ব্রেকিং নিউজ পড়ে ওই দুই বিক্ষোভকারী।

তারা বলেন,  এখন থেকে চ্যানেলে অন্য কিছু দেখানো হবে না। শুধু সংবাদ ও প্রতিবাদের ছবি দেখানো হবে। এই লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা রূপবাহিনী করপোরেশন শুধু প্রতিবাদের খবরই দেখাবে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়, যা এখনো বন্ধ রয়েছে।

এদিকে গোতাবায়া পালিয়ে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বুধবার (১৩ জুলাই) দেশটির স্পিকার ইয়াপা আবিওয়ার্দেনে সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার নির্দেশনায় বিক্রমাসিংহেকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই বিক্রমাসিংহে বিক্ষোভকারীদের দমনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানী কলম্বোসহ পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে সান্ধ্য আইনও জারি করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী গোতাবায়া বুধবার প্রথম প্রহরে দেশ ছেড়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে তিনি মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে পৌঁছান।

কয়েক মাস ধরে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল লঙ্কানরা। দেশ ছেড়ে পালানোর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপদেশে মহাপ্রতাপশালী রাজাপাকসে পরিবারের কয়েক দশকের কর্তৃত্বের লজ্জাজনক অবসান ঘটল।

Print Friendly and PDF