চট্টগ্রাম, রোববার, ২ অক্টোবর ২০২২ , ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ‘মা’ ডেকে দিনের পর দিন যৌন হেনস্থা

প্রকাশ: ১২ মে, ২০২২ ১:২১ : অপরাহ্ণ

গৃহশিক্ষকের হাতে দিনের পর দিন যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছে নবম শ্রেণির ছাত্রী। ছাত্রীর অভিযোগ, পড়ানোর ছলে দিনের পর দিন ওই শিক্ষক যৌন হেনস্থা করেছেন। ভয়ে ওই কিশোরী এত দিন কাউকে কিছু বলেনি। সম্প্রতি ওই ছাত্রী মায়ের কাছে সব খুলে বলে।

পরে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।এ ঘটনার পর বিধায়কচন্দ্র দাস নামে ওই গৃহশিক্ষক সপরিবার পলাতক। তিনি বিধায়কচন্দ্র এলাকার পরিচিত সিপিএম নেতা। গত পুর নির্বাচনে তিনি দলের হয়ে ভোটেও লড়েছিলেন।

আনন্দবাজার জানায়, শিলিগুড়ি পুরসভার মিলনপল্লি এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোরী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ত। কিশোরীকে ‘মা’ সম্বোধন করতেন বিধায়কচন্দ্র। ১৩ বছরের ওই ছাত্রীকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে অশোকনগরের বাসিন্দা বিধায়কচন্দ্রের বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রীর পরিবারের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই মেয়ে ওই ব্যক্তির কাছে অঙ্ক শিখতে যেত। ‘মা’ বলে ডাকার পরেও বিধায়কচন্দ্র যে এমন ঘটনা ঘটাল তা ভেবে আশ্চর্য হচ্ছেন কিশোরীর বাবা-মা। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটছে।

তার মা বলেন, ‘ইদানীং মেয়ে পড়তে যেতে চাইত না। নানা রকম অজুহাত দিত। আমরা জোর করেই ওকে পড়তে পাঠাতাম। ’

তিনি বলেন, ‘মেয়ে কিছুতেই যেতে চাইছিল না। বকাঝকা করতেই ও কেঁদে ফেলে। সব ঘটনা খুলে বলে। ’

পরে বুধবার নিউ জলপাইগুড়়ি থানায় বিধায়কচন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পুলিশকে কিশোরীর পরিবার জানায়, মেয়ের কাছ থেকে সব জানার পর তাঁরা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিশোরীর বাবা-মায়ের দাবি, প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে চাপে পড়ে সব স্বীকার করে নেন অভিযুক্ত বিধায়কচন্দ্র। গৃহশিক্ষকের স্বীকারোক্তির প্রমাণ হিসেবে গোটা কথোপকথনের রেকর্ডিং তাঁদের মোবাইলে রয়েছে বলে দাবি করেন নির্যাতিতার মা। তাঁদের এ-ও দাবি, ঘটনা জানাজানি হলে মেয়ের বদনাম হতে পারে, এই ভয় দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিধায়কচন্দ্র। তবে কিশোরীর বাবা-মা সে প্রস্তাব মেনে নেননি। তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন।

এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই স্থানীয়দের একাংশ ওই শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালান। পরে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্ত পলাতক।

Print Friendly and PDF