মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

গুজব ছড়িয়ে জারকিনে তেল মজুদের চেষ্টা, বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের অভিযান

রাজশাহীর দুর্গাপুরে হঠাৎ তেলের সংকট দেখা দিয়েছে- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলার বিভিন্ন তেল বিক্রয়কেন্দ্র ও পেট্রোল পাম্পে মানুষের অযথা ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল থেকে তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন বিক্রিয়কেন্দ্র ও পাম্পে মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।Oil & Gas

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য পাম্পগুলোতে ভিড় করেন। এতে কোনো কোনো পাম্পে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল বিক্রি হয়। হঠাৎ অতিরিক্ত বিক্রির কারণে কিছু পাম্পে অল্প সময়ের মধ্যেই মজুদ শেষ হয়ে গেলে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে তেলের সংকটের গুজব আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এদিকে তেলের সংকটের গুজবকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ ও মজুদের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুরের একটি পাম্প থেকে দুই মোটরসাইকেল আরোহী জারকিনে করে তেল নিয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া অপর একজনকে ভ্যানে করে জ্বালানি তেল নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বাইরে এভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করে কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং তা মজুদ বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে কি না।

তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুজবের কারণে হঠাৎ করে তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলেও সার্বিকভাবে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।Maps

এদিকে তেলের বিক্রয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে কি না এবং কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে কি না, তা যাচাই করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লায়া নূর তানজু বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে তেলের বিক্রয় স্বাভাবিক রয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অথবা মজুদদারির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল কেনার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে কেউ যাতে অযথা তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ক্যাটাগরি