সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটন

রামুতে ডিএসকে’র স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক জয়েন্ট রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত

নুর মুহাম্মদ,কক্সবাজার:
ডিএসকে-কেএনএইচ ও বিএমজেড প্রকল্পের উদ্যোগে কক্সবাজারর রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কার্যক্রমের অগ্রগতি, অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে একটি জয়েন্ট রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের হল রুমে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ২ জুলাই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম রিনা। তিনি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং শিশু সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডিএসকের উদ্যোগের প্রশংসা করে এ ধরনের কার্যক্রমে সকল অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক, শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্য, ফেডারেশন ও ইয়ুথ গ্রুপের সদস্য, শিক্ষক, ইমাম, গ্রাম পুলিশ এবং প্রকল্পের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন এবং শিশু সুরক্ষায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে উপস্থাপনা করেন নাছিমা শাহীন, টেকনিক্যাল ম্যানেজার (শিশু সুরক্ষা)।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, জন্মনিবন্ধন নিশ্চিতকরণ এবং মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

ইয়ূথ গ্রুপের সদস্য রিয়াবালা বলেন, “ডিএসকের সহযোগিতায় আমি পার্লার প্রশিক্ষণ নিয়ে চেইন্দা বাজার একটি পার্লারের দোকান দিয়েছি সেই আয় দিয়ে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পারছি পাশাপাশি পরিবারকে সহযোগিতা করছি।”

শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্য মাওলানা ছৈয়দ আহমদ বলেন, “ডিএসকের বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে এলাকায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ যোগ্যভাবে কমে এসেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পিতা-মাতা এবং তাদের ছেলে-মেয়েরা এখন বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হয়ে তা প্রত্যাখ্যান করছেন।”

জামাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, “পিতা-মাতারা সন্তান জন্ম দেন, আর আমরা তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। ডিএসকে শিশু সুরক্ষা কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে আসছে।

প্রকল্প ম্যানেজার মুর্তজা আলী বলেন, ডিএসকের প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হলেও যেন শিশু সুরক্ষা কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। এ লক্ষ্যে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যবৃন্দ এবং শিশু সুরক্ষা কমিটির সকল সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

খোদেস্তা বেগম রীনা বলেন, আমাদের যুবসমাজকে দেশ ও সমাজ গঠনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে মাদক নির্মূলে যুবকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখা জরুরি। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি । তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে গ্রাম পুলিশ ও যুবসমাজকে মাদক কারবারিদের তথ্য ও তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। পরিশেষে তিনি জয়েন্ট রিভিউ মিটিংএর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ক্যাটাগরি