রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতা বন্ধে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বান

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান সহিংসতা ও সংঘর্ষে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। সংগঠনটি বলছে, আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গুলাগুলি ও সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাহাড়ের সাধারণ মানুষ—কৃষক, শ্রমজীবী, শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কোথায় কখন আবার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, সেই শঙ্কায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোট উল্লেখ করে, পাহাড়ের মানুষ কখনোই সংঘাত চায় না; তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা, সম্মান ও উন্নয়ন। কিন্তু বারবার সহিংসতা ও প্রতিহিংসার কারণে এ অঞ্চলের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। “অস্ত্রের শক্তি কখনো মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে না, বরং তা নতুন শোক ও বিভেদের জন্ম দেয়,”—বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করা হয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, মতপার্থক্য বা রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও তার সমাধান কখনোই অস্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গণতান্ত্রিক পন্থাই টেকসই শান্তির একমাত্র পথ।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোট ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও সশস্ত্র সদস্যদের প্রতি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, “পাহাড়কে আর রক্তাক্ত করবেন না। এই ভূমি সহাবস্থান, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির প্রতীক হওয়া উচিত।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ আর সহিংসতা বা প্রাণহানি দেখতে চায় না; তারা চায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন। যেখানে শিশুরা নির্ভয়ে স্কুলে যেতে পারবে, কৃষকরা নিরাপদে কাজ করতে পারবে এবং প্রতিটি পরিবার নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবে।

সংগঠনটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সংবিধানসম্মত সমাধানের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, সকল পক্ষ আলোচনার টেবিলে এলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা।

ক্যাটাগরি