নিরাপদ পানির বাইরে ১০ কোটির বেশি মানুষ
বাংলাদেশে এখনও ১০ কোটিরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত—এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত এক যৌথ জরিপে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে স্যানিটেশন সুবিধা ৭৩ শতাংশে উন্নীত হলেও নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানীয় জলের প্রাপ্যতা নেমে এসেছে মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশে। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘পানি ও লিঙ্গ সমতা’, যেখানে পানি ব্যবস্থাপনায় নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, দেশের প্রায় অর্ধেক পানির উৎস দূষিত এবং গৃহস্থালির ব্যবহৃত পানির ৮০ শতাংশের বেশি নমুনায় ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। ২০২৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ১০ দশমিক ২ শতাংশ পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পাশাপাশি চিংড়ি চাষ ও লবণ উৎপাদনের মতো স্থানীয় কার্যক্রমও এই সমস্যাকে তীব্র করছে।
অনিরাপদ পানির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরা। এতে তারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, বাড়ছে স্কুলে অনুপস্থিতি ও পুষ্টিহীনতা। অন্যদিকে লবণাক্ত পানি পান উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। রায়ে নিরাপদ পানিকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জনসমাগমস্থলে বিনামূল্যে পানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং আগামী ১০ বছরের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।