মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতি

ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পূর্ণাঙ্গ বোনাস পরিশোধ করতে হবে: অধ্যক্ষ খাইরুল বাশার

ঈদুল ফিতরের ছুটির পূর্বে দেশের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ওচট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ খাইরুল বাশার। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না হলে শিল্পখাতে চরম শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে থানা ও সেক্টর দায়িত্বশীলদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ মার্চ ২০২৬ নগরীর জামালখানস্থ নগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান ও সঞ্চালনা করেন নগর সহ-সভাপতি মকবুল আহম্মেদ ভূঁইয়া।

অধ্যক্ষ খাইরুল বাশার বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হয়েছে—২০ রমজানের মধ্যেই শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ দাবি বাস্তবায়ন করেনি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিয়ে কোনো ধরনের নয়ছয় বা গড়িমসি করা হলে তা চরম শ্রমিক অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় মালিকদের গাফিলতিকেই বহন করতে হবে। মালিকদের উচিত দায়িত্বশীল আচরণ করে সময়মতো শ্রমিকদের প্রাপ্য পরিশোধ নিশ্চিত করা।

সরকারের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সরকারের উচিত গভীর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে না পারে।

রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান ইনসাফ, ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাস মানুষকে অন্যের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে শেখায়। রমজানের শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।

সমাজে বৈষম্য দূরীকরণে যাকাতের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সঠিকভাবে যাকাত বণ্টন করা হলে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, শ্রমিক সংগঠনের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত ও ব্যাপক। দিনের প্রতিটি সময় কোন না কোন জায়গায় শ্রমিকরা নির্যাতিত নিপীড়িত হচ্ছে। শ্রমিক নেতৃত্বকে এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে হবে। যেন আমাদের একজন শ্রমিক ভাইও নির্যাতন নিপীড়নের শিকার না হয়। আমরা প্রত্যাশা করি রামাদান মাসের উসিলায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দেশ থেকে বৈষম্য ও অন্যায় দূর করবেন। আমরা শ্রমজীবী মানুষদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠন করতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমাদের নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। সততা ন্যায় ও ইনসাফের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মাদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স ম শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার ও পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

ক্যাটাগরি