বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

বিপন্ন সুন্দরবন রক্ষায় আজ ‘সুন্দরবন দিবস’

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হলেও সুন্দরবন উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আর বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে পালিত হয়ে আসছে ‘সুন্দরবন দিবস’।

মূলত সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই উপকূলীয় জেলাগুলোতে এই দিবসটি পালন করা হয়।

সুন্দরবন রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনায় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রূপান্তরসহ দেশের প্রায় ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত সেই সম্মেলনেই ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে প্রতিবছর উপকূলীয় জনপদে দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান ঢাল এই সুন্দরবন। তবে বর্তমানে নানামুখী সংকটে বিপন্ন এই বন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা এখন বনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাশাপাশি বন্য প্রাণী শিকার, অবৈধভাবে গাছ পাচার এবং বিষ দিয়ে মাছ ধরার মতো মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড বনের বাস্তুসংস্থানকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। বিশেষ করে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ বনের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এই বিশাল বনভূমি ৫২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৫০৫ প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল। যার মধ্যে রয়েছে ৪৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৮৭ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৪ প্রজাতির উভচর এবং ৩৫৫ প্রজাতির পাখি।

প্রাকৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো একে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে।

পরিবেশবাদীদের মতে, সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে কেবল দিবস পালন নয়, বরং বনের ওপর মানুষের আগ্রাসন বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

ক্যাটাগরি