ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: প্রধান উপদেষ্টা
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদিত ব্যাপক শ্রম আইন, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পররাষ্ট্রনীতি উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ানের সদস্যপদ লাভে ঢাকার পরিকল্পনা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি হবে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন। ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে। আসুন, আমরা আঙুল ক্রস করে থাকি।’
জবাবে, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করা রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোক না কেন, তার সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী।
মার্কিন দূত অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং গত ১৮ মাসে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা আরও শুল্ক হ্রাসের পথ সুগম করবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং বলেন, কৃষিপণ্য বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঢাকা–ওয়াশিংটন আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে।
অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে বসবাসরত এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৮ মাসে তিনি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে এ অঞ্চলের জনগণ ও অর্থনীতিকে আরও ঘনিষ্ঠ করা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সরকার এই উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা হয়, যা বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপ করা হয়েছে।
এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।