বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করাই আলেমদের দায়িত্ব – নজরুল ইসলাম

মহানগর ওলামা কমিটির সাথে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আমীরের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা আলেম-ওলামাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলাম যেমন মুসলমানদের পারস্পরিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে, তেমনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে শান্তিপূর্ণ ও প্রতিবেশিসুলভ সহাবস্থানেরও শিক্ষা দেয়। মত ও বুঝের পার্থক্য অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু এসব পার্থক্যকে কেন্দ্র করে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যে ফাটল সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। কেউ উসকানি দিলেও উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। ‘ইত্তিহাদ মাআল ইখতিলাফ’ নীতির আলোকে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সকল মারকাজ ও মানহাজের ওলামা-মাশায়েখদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগর জামায়াতের দেওয়ানবাজারস্থ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে মহানগরীর ওলামা কমিটির সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগর জামায়াতের ওলামা বিভাগের সম্পাদক মাওলানা মমতাজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা মোহাম্মদ মোহছেন আল হোসাইনীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন ড. অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ আবু নোমান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আমীনুল ইসলাম, মাওলানা হামেদ হাছান, মাওলানা আহমদুর রহমান নদভী, মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ আকতার হোসাইন ফারুকী, মাওলানা মুহাম্মদ রুহুল আমীন, মাওলানা মুহাম্মদ নাজির হোসাইন কুতুবী, মাওলানা মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব, মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ, মাওলানা মুহাম্মদ খালেদ জামাল, মাওলানা মুহাম্মদ আবু তাহের, মুহাম্মদ ইলিয়াছ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে ওলামা-মাশায়েখদের বাড়াবাড়ি পরিহার এবং পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফিকহি কিংবা কৌশলগত মতপার্থক্যকে প্রধান আলোচ্য না বানিয়ে বৃহত্তর উম্মাহর স্বার্থে সব মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো মুসলিম স্কলারদের অন্যতম দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের চর্চার মাধ্যমে উম্মাহর ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

তিনি বলেন, ইসলামে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জানমালের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, তা খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও প্রতিবেশিসুলভ আচরণের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে আলেম-ওলামাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা শুধু সামাজিক প্রয়োজন নয়, বরং এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষারও অংশ।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো ধরনের উসকানি, অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধে আলেম-ওলামাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আবেগপ্রবণ না হয়ে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও নৈতিকতাসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ওলামা-মাশায়েখদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাটাগরি