মঙ্গলবার, ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২৫

কয়েক ঘণ্টা আগেও পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিদিনের মতোই। কিন্তু দুপুর গড়াতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। একের পর এক কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকরা। অবরোধ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর পুলিশের টিয়ারশেলে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলের এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ১০ থেকে ১৫টি যানবাহন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। সকাল থেকেই ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী, আদমজী ইপিজেড, কাঠেরপুল ও শিবু মার্কেট এলাকার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা স্বাভাবিক নিয়মে কাজে যোগ দেন।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দুপুরে ফতুল্লার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীবসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসআরবি, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও ছিল পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা।

তবে দুপুর আড়াইটার পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। ফতুল্লার কাঠেরপুল ও শিবু মার্কেট শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা থেকে বেরিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে জড়ো হতে থাকেন। তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। তারাও শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। তবে এসব উদ্যোগ উপেক্ষা করে বিকেল ৩টার দিকে শ্রমিকরা লিংক রোড অবরোধ করেন।

শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে শিবু মার্কেট, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।

এরই মধ্যে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও এপিসি ব্যবহার করার পাশাপাশি শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জ ও ধাওয়ায় ১০-১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ১০-১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেন।

ঘটনাস্থল থেকে নাশকতাকারী সন্দেহে ৪-৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ছোড়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

শিল্প পুলিশ নারায়ণগঞ্জ-৪-এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলায় পুলিশের ১০-১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পর্যালোচনা করে উসকানিদাতাদের শনাক্তের কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যাটাগরি