ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা শীর্ষক আলোচনা সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আমরা প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া বিটিআই (BTI) যুক্ত মেথডোলজির সলিউশন ব্যবহার করছি, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত। এই লার্ভিসাইড পানিতে প্রয়োগ করলে এডিস মশার লার্ভা তা খেতে আকৃষ্ট হয় এবং তাদের ক্ষারীয় পরিপাকতন্ত্রে সক্রিয় হয়ে বিষক্রীয়া সৃষ্টি করে লার্ভাকে ধ্বংস করে । এই কার্যকর পদক্ষেপের ফলেই সারা দেশে ডেঙ্গু বাড়লেও চট্টগ্রামে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং তিন দিনের বেশি পানি জমা না রাখার মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু বিস্তার রোধ করতে পারি।
তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আবদুল খালেক মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ পরিষদ আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা শীর্ষক আলোচনা ও অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। এডিস মশা প্রধানত সূর্যোদয়ের পর এবং সূর্যাস্তের আগে সক্রিয় থাকে। যারা ভোরে উঠে কাজ শুরু করেন, তাদের মশা কম কামড়ায়, কিন্তু যারা সূর্যোদয়ের পর দীর্ঘক্ষণ ঘুমান, আলমিরা, জানালা বা পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মশা তাদের আক্রান্ত করে। তাই ঘরে জানালায় মশানিরোধক নেট ব্যবহার করা এবং দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় বাধ্যতামূলকভাবে মশারি ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি। সবাই সচেতন হলে ও সঠিক নিয়ম মেনে চললে আমরা অবশ্যই চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে পারব।
ডা. শাহাদাত বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে অনেক সময় মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব ও ছাদে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই বাসাবাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। প্রতি তিন দিনে অন্তত একবার জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ পরিষদের সভাপতি শেখ মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, মা ও শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান। সোমা মুৎসুদ্দির পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তুতুল বাহার, সহ সভাপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরী, ফরিদুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শোয়েব, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসা খান, ডা. জাফরুল্লাহ পরিষদের সম্পাদক রাজন বড়ুয়া, রাজিব শীল, তাহেরা আকতার, জান্নাতুল মাওয়া মারুফা প্রমুখ।