রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালাল বিএসএফ

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বাংলাদেশের অংশে নদী থেকে পাথর ও বালু তোলার সময় শ্রমিকদের ওপর হামলার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

এসময় স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এসে ধাওয়া-দিলে একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তে ৮৩৭/৪এস নম্বর প্রধান পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের এক পাশে বাংলাদেশের পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল এলাকা, অন্য পাশে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধার বিএস বাড়ী সীমান্ত। শনিবার বিকেলে ওই সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত সানিয়াজান নদীর বাংলাদেশ অংশে কয়েকজন শ্রমিক হাতে চালিত পদ্ধতিতে পাথর ও বালু তুলছিলেন।

এ সময় ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএস বাড়ী ক্যাম্পের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য নদীতে নেমে শ্রমিকদের বাধা দেন এবং তাদের মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিকদের চিৎকার শুনে আশপাশের ১৫ থেকে ২০ জন বাসিন্দা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসেন।

তারা বিএসএফ সদস্যদের প্রতিরোধ করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিএসএফ সদস্যরা নদী পার হয়ে ভারতে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বুড়িমারী কোম্পানি সদরের বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সন্ধ্যায় ওই সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে সীমান্ত অতিক্রম এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় বিএসএফের কাছে প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। তবে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম ও গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক কারিমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাথর তোলার সময় বিএসএফ বাধা দেয়। এ সময় ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে ভয় দেখাতে সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে।

ক্যাটাগরি