রাঙামাটিতে শ্যামলী পরিবহনের বাসে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি:
রাঙামাটি থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ দল। এ ঘটনায় গাঁজাভর্তি বস্তাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাঙামাটি শহরের বনরূপা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের বক্সে রাখা একটি বস্তা থেকে ৩০টি রোলে মোড়ানো মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মাগুরা জেলার বাসিন্দা জীবলু মোল্লা ও মোস্তফা কামাল। পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় ও পুলিশি রেকর্ড যাচাই করে জীবলু মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টি এবং মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, রাঙামাটি থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে গাঁজা পাচারের গোপন তথ্য পেয়ে পুলিশ নজরদারি বাড়ায়। পরে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিবের সার্বিক নির্দেশনায় কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ দল বনরূপা এলাকায় বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় বস্তাভর্তি গাঁজা উদ্ধার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই যাত্রীকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন রাঙামাটি থেকে যাত্রীবাহী পরিবহনে করে তিনবার গাঁজা নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রতিবার একটি বস্তায় ১৫ কেজি করে গাঁজা নিয়ে রাঙামাটি থেকে মাগুরার দিকে যেতেন তারা।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার এলাকায় এক অটোরিকশাচালকের মাধ্যমে গাঁজাভর্তি বস্তা সংগ্রহ করতেন বলে জানিয়েছেন। পরে বস্তাটি শ্যামলী পরিবহনের বাসে তুলে যাত্রীবেশে নিয়ে যেতেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাশিনাথপুর এলাকায় পৌঁছে শাহিন ও রোমান নামের দুই ব্যক্তির কাছে গাঁজা হস্তান্তর করা হতো। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
রাঙামাটি থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশি সিগারেটসহ ভারতীয় পণ্য আটকের ঘটনাও ঘটেছে। এবার যাত্রীবাহী বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক পরিবহনে গণপরিবহনের ব্যবহার এবং সম্ভাব্য আন্তজেলা পাচারচক্রের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ওসি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আরও জানান, গাঁজার উৎস, সরবরাহকারী, পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য আন্তজেলা পাচারচক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।