বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের জায়গা: রাহুল গান্ধী

ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তর আবারও জনগণের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

রাহুলের ভাষায়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়, এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক ও বিরোধী জোটসবার ব্যানার আলাদা হলেও তাদের দাবি এক।

তারা নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে বিক্ষোভ করছেন। যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এটি আবারও ফিরিয়ে নেব।

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য এসেছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর পর। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে প্রবেশ, জাতীয় পতাকা ওড়ানো ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তাদের আটক করা হয়।

পরে আদালত তাদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে দিল্লি কর্তৃপক্ষ যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেয়। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জায়গাটি দিল্লিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের পরিচিত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে সিজেপি ও অন্যান্য বিক্ষোভকারী সংগঠন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, নিজের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কখন থেকে শান্তি ভঙ্গের অপরাধ হয়ে গেল? তিনি রাহুল গান্ধীর সমর্থনের জন্য তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ (এসআইআর) কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরও কয়েকজন বিরোধী নেতা সিজেপির নেতাদের কারাগারে পাঠানোর সমালোচনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ক্যাটাগরি