মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

আলীকদমে অবৈধ পাহাড় কাটার সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ; থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদমে পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধ পাহাড় কাটার সংবাদ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির পাল্টা অভিযোগ তুললেও এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক ২:০০ ঘটিকায় আলীকদম কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে প্রধান সড়কের ওপর অবৈধভাবে কেটে আনা পাহাড়ের মাটি পরিবহনের চিত্র ধারণ ও পেশাগত তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিকরা।

অভিযোগের বিষয়ে হামলার শিকার আলীকদম প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ‘বাংলাধারা’র প্রতিনিধি মোঃ আতাউল্লাহ জানান, “আমি আর আমার অপর সহকর্মী আরফাতুল ইসলাম (দৈনিক সাঙ্গু) পাহাড়ের মাটি বহনকারী পিকআপ থামিয়ে চালকের কাছে তথ্য জানতে চাইলে উল্লেখিত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজন কোনো কথা ছাড়াই আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায়।”

অভিযোগে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন, তথ্য সংগ্রহকালে আলীকদম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ ইলিয়াস মিঞা (৪২) এবং সদর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস সিকদার (৩০)-সহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জন তাদের ওপর চড়াও হয় এবং পিকআপটি পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। একপর্যায়ে গাড়ি চালককে গাড়ি চাপা দেওয়ার নির্দেশ দিলে সাংবাদিকরা কোনো রকমে আত্মরক্ষা করেন। পরে সন্ত্রাসীরা শারীরিক হামলা চালিয়ে আঘাত করে এবং মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানা পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে ইলিয়াস সিকদারকে আটক করা হয়। পরে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে তাকে জরিমানা (মামলা নং-৬৬/২০২৬) করা হয়।

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ইলিয়াস মিঞা জানান, “আরফাত ও আতাউল্লাহ দুইজনই আমার কাছে স্নেহতুল্য ছোট ভাইয়ের মতো। তারা দুইজন যখন ইলিয়াস সিকদারকে বারবার মারার জন্য যাচ্ছিল, তখন বড় কোনো অঘটন ঘটবে ভেবে আমি দুই পক্ষকেই সরিয়ে দিই। হয়তো সেখানে আমি এক-দুইজনকে চড়ও দিয়েছি, তবে অন্ধকারে আমি ঠিকমতো তাদের চেহারা দেখি নি। অভিযোগে বিষয়টিকে অতি বাড়িয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি আসলেই তাদের সেভাবে মারা হতো, তবে শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকবে; আমি তা দেখাতে চ্যালেঞ্জ করছি।”

অপর অভিযুক্ত মোঃ ইলিয়াস সিকদার চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “তারা দুইজন সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি আটকিয়ে চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে ইউএনওকে ডেকে জরিমানা করানোর হুমকি দেয়। চাঁদা না দেওয়ার কথা জানিয়ে রাস্তা থেকে সরে যেতে বললে তারা দাঁড়িয়ে থাকে। পরবর্তীতে ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া দুইজনই আমার ওপর আক্রমণ করে বসে।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সাংবাদিক আরাফাতকে মারধরের ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য।

এদিকে, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা ও হুমকির তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছে আলীকদম প্রেস ক্লাব। প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ উক্ত ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আক্রান্ত সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

ক্যাটাগরি