শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

আন্তর্জাতিক এবাকাস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্য জিতল মানহা

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক এবাকাস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়ে রৌপ্য পদক অর্জন করেছে বান্দরবানের লামা উপজেলার খুদে শিক্ষার্থী মানহা বিনতে মঈন। গত ২৬ জুলাই থাইল্যান্ডের পাতায়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এবাকাস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এ সাফল্য অর্জন করে সে।

মানহা বিনতে মঈন বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিনের কন্যা। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে রৌপ্য পদক অর্জন করায় তার পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, এবাকাসের ওপর দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছে মানহা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘স্মার্ট ব্রেইন বাংলাদেশ’ আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এবাকাস প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সে। সেখানে সারাদেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে সপ্তম স্থান অর্জন করে মানহা।

জাতীয় পর্যায়ে এই সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় সে। পরে থাইল্যান্ডের পাতায়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এবাকাস প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নেয় মানহা। প্রতিযোগিতা শেষে বাংলাদেশের জন্য রৌপ্য পদক অর্জন করে সে।

মানহার এই আন্তর্জাতিক অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লামা উপজেলাসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সাফল্য নিয়ে প্রশংসা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে মানহা ও তার পরিবারকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ছোট বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে পদক অর্জন করা মানহার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তেমনি এটি লামার শিশু-কিশোরদের মধ্যেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ তৈরি করবে।

ক্রীড়াবিদ চৌধুরী মোহাম্মদ সুজন বলেন, “মানহা থাইল্যান্ডের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়ে রৌপ্য পদক অর্জন করেছে। তার এই অর্জন লামাবাসীর জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়। লামাবাসীর পক্ষ থেকে মানহাকে অভিনন্দন জানাই। ভবিষ্যতে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

মানহার পরিবারের পক্ষ থেকেও তার এই অর্জনে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি এবাকাস চর্চায় মানহার আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত অনুশীলন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সে নিজের দক্ষতা আরও বাড়াতে চায়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে মানহা তার মেধা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সাফল্য অর্জন করবে এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আরও সুযোগ পাবে।

ক্যাটাগরি