লামায় নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নিয়ে তথ্য বিনিময় কর্মশালা’
নজরুল ইসলাম, লামা, বান্দরবানঃ
বান্দরবানের লামায় অংশীজন, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও), কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও), কমিউনিটি চেঞ্জ মেকার (সিসিএম) এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে নাগরিকতা ও সিভিক এনগেজমেন্ট বিষয়ে তথ্য বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট ২০২৬) লামা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড’-এর আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। EMPOWERMENT Project, গ্রাউস (GRAUS)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক অংশগ্রহণ, সামাজিক সচেতনতা, জবাবদিহিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও তথ্য বিনিময় করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা থানার (তদন্ত) ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম, উপ-নির্বাহী পরিচালক চিন্ময় মুরুং এবং সহকারী তথ্য অফিসারের প্রতিনিধি চহ্লামং মার্মা।
কর্মশালার শুরুতে গ্রাউসের কর্মকর্তা ক্যনু মং মার্মা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্প ও নাগরিক সম্পৃক্ততা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রেজেন্টেশনে নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র ও তথ্য উপস্থাপন করায় অংশগ্রহণকারীরা বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারেন। এ সময় স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সম্পৃক্ততা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি নাগরিকদের নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ, সামাজিক জবাবদিহিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতামত ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
কর্মশালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বে লামা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সিসিএম নেতৃবৃন্দ তাদের নিজ নিজ এলাকার কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা মাঠপর্যায়ে নাগরিকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন উদ্যোগ, সফলতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে পরিচালিত কার্যক্রম, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জনগণের মতামত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন সিসিএম নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এক ইউনিয়নের সফল উদ্যোগ থেকে অন্য ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের শেখার সুযোগ তৈরি হয়।
আলোচনায় নারী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।
কর্মশালায় সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা কর্মশালার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা, স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন সম্পাদক নজরুল ইসলাম। সার্বিক পরিচালনা ও সভাপতিত্ব করেন ফোকাল পার্সন ও সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা।
কর্মশালায় লামা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সিসিএম নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় অংশীজন, সিএসও, সিবিও, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, EMPOWERMENT Project, GRAUS-এর এ কার্যক্রম সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় এবং কানাডার অংশীদারত্বে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মশালার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক অংশগ্রহণ আরও জোরদার, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।