বিশ্ব হাতি দিবসে কাপ্তাইয়ে র্যালি ও আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের মাঝে ১০০ গাছের চারা বিতরণ,,
মো. জয়নাল আবেদীন, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা বাড়লেও খাদ্যসংকট ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে হাতি। এতে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। হাতির চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা, আবাসস্থল ধ্বংস ও দখল না করা এবং হাতির কাছাকাছি গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জের আয়োজনে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম।
কাপ্তাই বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কাপ্তাই সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ এবং কর্ণফুলী রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার ফজলে রাব্বি সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান।
বক্তারা জানান, ২০২৪ সালে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির সংখ্যা ছিল ৩৬টি। বর্তমানে সেখানে আনুমানিক ৪২ থেকে ৪৫টি হাতি রয়েছে। বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও খাদ্যসংকটের কারণে অনেক সময় হাতি লোকালয়ে চলে আসে। ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
বক্তারা বলেন, ‘নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় হাতিকে বাঁচাতে হবে।’ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বন উজাড় হওয়ায় হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। তাই হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, হাতির চলাচলের করিডোরে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। হাতির আবাসস্থল ধ্বংস কিংবা দখল থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো হাতি লোকালয়ে চলে এলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দিতে হবে। কৌতূহলবশত হাতির কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করে নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এর আগে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে স্কুলশিক্ষার্থী,বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বনের ওপর নির্ভরশীল উপকারভোগীদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব হাতি দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০০ শিক্ষার্থীর মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার পাশাপাশি নতুন করে গাছ লাগানোর মাধ্যমে হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার উদ্যোগকে আরও জোরদার করতে হবে।