বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

কেন্দ্রীয় নেত্রীর পর্নোগ্রাফি মামলায় সাংবাদিকসহ সাবেক ছাত্রদল নেতা আটক

অহিদুল ইসলাম অভি,রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেত্রীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে সাদাপোশাকে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল প্রথমে আলী আকবর সুমনকে আটক করে। পরে সেখানে আসেন সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী। একপর্যায়ে তাকেও আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঘিরে ধরেন। এ সময় সড়কের পাশে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল। কথাবার্তার একপর্যায়ে তাকে ওই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে গাড়িটি রাঙামাটি স্টেডিয়ামের দিকে চলে যায়।

বিকেলে রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানায়, শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেত্রীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আটক করেছে। পরে তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেত্রীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। বিস্তারিত আমাদের জানানো হয়নি।

রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন জানান, জেলা পরিষদের সামনে থেকে প্রথমে আলী আকবর সুমনকে সাদাপোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়িতে তুলে নেন। পরে সুমনের ফোন পেয়ে সেখানে যান সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী। এ সময় সাদাপোশাকের ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তাকেও গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ বলেন, সাংবাদিক সৈকতকে ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে মামলায় তার নাম রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেত্রীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই নেত্রী শাহবাগ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। তবে মামলায় কারা আসামি, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ওই নেত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী ও আলী আকবর সুমনকে আটকের ঘটনায় রাঙামাটির সাংবাদিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ক্যাটাগরি