বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: অপার সম্ভাবনা, কিন্তু কেন আমরা পিছিয়ে?

মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বাস্তব পর্যবেক্ষণ
সম্প্রতি মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। একজন পর্যটক হিসেবে এই দুই দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি তাদের পর্যটন ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ, পর্যটকদের প্রতি সেবা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পর্যটনকে অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার পদ্ধতিগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।

ভ্রমণ শেষে বারবার একটি প্রশ্ন মনে হয়েছে—প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের দিক থেকে বাংলাদেশ কি সত্যিই মালদ্বীপ বা শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে?
আমার উত্তর—কখনোই নয়। বরং বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—আমরা আমাদের সৌন্দর্যকে পর্যটন পণ্যে পরিণত করতে পারিনি।
বাংলাদেশের রয়েছে অসাধারণ বৈচিত্র্য বাংলাদেশের আয়তন তুলনামূলক ছোট হলেও পর্যটনের জন্য আমাদের রয়েছে অসাধারণ বৈচিত্র্য।

সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, হাওর, চা-বাগান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ধর্মীয় স্থাপনা, লোকজ সংস্কৃতি—কী নেই বাংলাদেশে?
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সৌন্দর্য, সেন্টমার্টিন, সিলেটের চা-বাগান, হাওরাঞ্চল, পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, ষাটগম্বুজ মসজিদসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা আমাদের পর্যটনের বিশাল সম্পদ।

একজন বিদেশি পর্যটককে সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবন—সবকিছুই বাংলাদেশে দেখানো সম্ভব।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্পদকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারছি?
মালদ্বীপ থেকে আমাদের কী শেখার আছে?মালদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিঃসন্দেহে অসাধারণ। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদকেও কীভাবে পরিকল্পিতভাবে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পে রূপান্তর করা যায়।
ছোট ছোট দ্বীপ, নীল সমুদ্র আর প্রবালপ্রাচীর—এই সীমিত সম্পদকে কেন্দ্র করে তারা তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ব্যবস্থা।

বিমানবন্দর থেকে রিসোর্ট, পরিবহন থেকে পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা—সবকিছুকে একটি সমন্বিত পর্যটন অভিজ্ঞতার অংশ করা হয়েছে। ফলে পর্যটক সেখানে শুধু সমুদ্র দেখতে যায় না; বরং একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও মানসম্মত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসে।

শ্রীলঙ্কা থেকে আরও বড় শিক্ষা শ্রীলঙ্কায় এসে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে আমাকে ভাবিয়েছে।
এখানে পাহাড়, চা-বাগান, জলপ্রপাত, সমুদ্র, বন্যপ্রাণী, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ধর্মীয় স্থান—সবকিছুকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ক্যান্ডি, নুয়ারা এলিয়া, রামবোডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চল—প্রতিটি জায়গার নিজস্ব গল্প আছে।
বিশ্বখ্যাত Ceylon Tea শুধু একটি পণ্য নয়; সেটিকে তারা পর্যটনের অংশ বানিয়েছে। পর্যটক চা-বাগানে যায়, চা উৎপাদন দেখে, ইতিহাস জানে, ছবি তোলে এবং সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে যায়।
এটাই পর্যটন ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—শুধু সৌন্দর্য থাকলেই পর্যটন হয় না; সৌন্দর্যের সঙ্গে গল্প, ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও সঠিক উপস্থাপনাও দরকার।
বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত বিষয়—মানুষের আচরণ

পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের কথা বললে আমরা সাধারণত রাস্তা, হোটেল, রিসোর্ট, বিমানবন্দর ও অবকাঠামোর কথা বলি। কিন্তু একটি বিষয় প্রায়ই ভুলে যাই—পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো মানুষ।একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে প্রথমে যার মুখোমুখি হতে পারেন, তিনি হয়তো বিমানবন্দরের কর্মকর্তা, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, ট্যাক্সিচালক, রিকশাচালক, সিএনজি চালক, হোটেলকর্মী, রেস্টুরেন্টের কর্মচারী কিংবা একজন সাধারণ দোকানি।
তাদের আচরণই অনেক সময় বাংলাদেশের প্রথম পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।

একজন পর্যটক যদি কোনো যানবাহনে উঠে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, প্রতারণা, দুর্ব্যবহার, হয়রানি কিংবা অসহযোগিতার শিকার হন, তাহলে তার কাছে পুরো দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে একজন রিকশাচালক বা সিএনজি চালক যদি হাসিমুখে সঠিক ভাড়া নেন, গন্তব্য সম্পর্কে সহযোগিতা করেন এবং ভদ্র আচরণ করেন—তাহলে তিনিই বাংলাদেশের একজন অঘোষিত পর্যটন দূত হয়ে উঠতে পারেন।
তাই পর্যটন প্রশিক্ষণ শুধু গাইডদের জন্য নয়
আমাদের দেশে পর্যটন প্রশিক্ষণকে নতুনভাবে ভাবতে হবে।

শুধু কয়েকজন ট্যুরিস্ট গাইডকে প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না। প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে—রিকশাচালক ও সিএনজি চালক

ট্যাক্সি ও বাসচালক হোটেল ও রেস্টুরেন্টের কর্মচারী পর্যটনকেন্দ্রের দোকানি ও ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্য পর্যটনকেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সি

স্থানীয় তরুণ-তরুণী তাদের শেখাতে হবে—পর্যটকের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে সেবা দিতে হয়, কীভাবে মূল্য নির্ধারণ করতে হয়, কীভাবে বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখাতে হয় এবং কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে কীভাবে সহযোগিতা করতে হয়।

একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট হেল্পলাইন, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত প্রতিকার ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
একজন প্রশিক্ষিত গাইড পুরো এলাকার চেহারা বদলে দিতে পারেন বাংলাদেশের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী গাইডের ব্যবস্থা করা দরকার।

একজন ভালো গাইড শুধু পথ দেখাবেন না; তিনি একটি এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও মানুষের গল্প পর্যটকের কাছে তুলে ধরবেন।

যেমন, শ্রীলঙ্কার রামবোডায় একজন পর্যটক শুধু পাহাড় দেখেন না; তিনি সিলন চায়ের ইতিহাস, চা-বাগানের সংস্কৃতি, পাহাড়ি জীবন, স্থানীয় ঐতিহ্য—সবকিছুর সঙ্গে পরিচিত হন।

বাংলাদেশেও কক্সবাজার, সুন্দরবন, পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, সোনারগাঁও, বাগেরহাট, সিলেট, পার্বত্য অঞ্চলসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে এমন প্রশিক্ষিত গাইড তৈরি করা সম্ভব।

পর্যটক মানেই শুধু একজন ভ্রমণকারী নয়আমাদের এই মানসিকতাটিও বদলাতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে যে অর্থ ব্যয় করেন, তা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি উৎস। তিনি হোটেলে টাকা খরচ করেন, যানবাহন ব্যবহার করেন, রেস্টুরেন্টে খান, স্থানীয় পণ্য ও হস্তশিল্প কেনেন, গাইড নেন—অর্থাৎ তার ব্যয়ের অর্থনীতিতে বহু মানুষ যুক্ত হন।
এ কারণে একজন পর্যটককে হয়রানি করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে কষ্ট দেওয়া নয়; বরং বাংলাদেশের একটি সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ নষ্ট করা।

আমরা বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে দেখি। ঠিক একইভাবে আন্তর্জাতিক পর্যটন থেকেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।পার্থক্য হলো—প্রবাসী আয়ের জন্য আমাদের মানুষকে বিদেশে যেতে হয়; কিন্তু পর্যটন শিল্প উন্নত করতে পারলে বিদেশিরাই বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন।
এটি অর্থনীতির জন্য একটি অসাধারণ সম্ভাবনা।নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনের উন্নয়নের জন্য সুন্দর প্রকৃতি ও ভালো হোটেল যথেষ্ট নয়। একজন পর্যটক প্রথমেই জানতে চান—
এই দেশটি কি নিরাপদ?

পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নির্ভরযোগ্য পরিবহন এবং দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, অবরোধ, অনিরাপদ সড়ক, হয়রানি কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি—এসব পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বিশ্বের কোনো পর্যটকই ছুটি কাটাতে এসে অনিশ্চয়তা বা আতঙ্কের মধ্যে থাকতে চান না।
তাই বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আমাদের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে শুধু “স্থান” নয়, “অভিজ্ঞতা” হিসেবে গড়ে তুলতে হবে
কক্সবাজারে শুধু সমুদ্র দেখিয়ে পর্যটক ধরে রাখা যাবে না। সেখানে সামুদ্রিক সংস্কৃতি, স্থানীয় খাবার, নৌভ্রমণ, পরিবেশবান্ধব বিনোদন, স্থানীয় হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যুক্ত করা যেতে পারে।

সুন্দরবনে শুধু নৌকায় ঘোরানো নয়—ম্যানগ্রোভ বন, বন্যপ্রাণী, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন, মধু সংগ্রহ, নদী ও পরিবেশের গল্প তুলে ধরতে হবে।

সিলেটে শুধু চা-বাগান নয়—চা উৎপাদনের ইতিহাস, চা তৈরির প্রক্রিয়া ও চা-সংস্কৃতিকে পর্যটনের অংশ করতে হবে।
পাহাড়ি অঞ্চলে শুধু পাহাড় দেখানো নয়—স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, খাবার, হস্তশিল্প ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।

অর্থাৎ—একটি পর্যটনকেন্দ্র = একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা।স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয়
পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নে স্থানীয় জনগণকে অংশীদার করতে হবে। স্থানীয় মানুষ যদি পর্যটন থেকে আয় করতে পারেন, তাহলে তারাই পর্যটনকেন্দ্র রক্ষা করবেন।স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গাইড, ড্রাইভার, উদ্যোক্তা, হোটেলকর্মী ও ট্যুর অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।স্থানীয় নারীদের হস্তশিল্প, খাবার, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।এভাবে পর্যটন শুধু পর্যটকের বিনোদন নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতিরও চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে এখনো বিশাল সুযোগ মালদ্বীপ আমাকে শিখিয়েছে—সীমিত সম্পদকেও সঠিক পরিকল্পনায় বিশ্বমানের পর্যটনে পরিণত করা যায়। শ্রীলঙ্কা আমাকে শিখিয়েছে—প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে একসঙ্গে তুলে ধরে একটি দেশের পর্যটন ব্র্যান্ড তৈরি করা যায়।

আর বাংলাদেশ আমাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়—আমাদের সম্ভাবনা আছে, সৌন্দর্য আছে, ইতিহাস আছে, সংস্কৃতি আছে; শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা, সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং আমাদের নিজেদের সম্পদকে ভালোবাসার মানসিকতা।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে যদি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে এটি শুধু ভ্রমণ ও বিনোদনের খাত থাকবে না; বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান খাত হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথাআমাদের দেশের একজন রিকশাচালক, সিএনজি চালক, দোকানি, হোটেলকর্মী কিংবা একজন সরকারি কর্মকর্তা—প্রত্যেকেই একজন বিদেশি পর্যটকের চোখে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তাই পর্যটন উন্নয়নের প্রথম শিক্ষা হতে পারে—”পর্যটককে অতিথি হিসেবে সম্মান করুন, প্রতারণার সুযোগ হিসেবে নয়।”
একজন পর্যটককে হাসিমুখে স্বাগত জানানো, সঠিক তথ্য দেওয়া,ন্যায্য মূল্য নেওয়া এবং নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া—এগুলো ছোট কাজ মনে হলেও দেশের জন্য এর প্রভাব অনেক বড়।

আমরা যদি আমাদের প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের সৌন্দর্য, আচরণ ও আতিথেয়তা যোগ করতে পারি, যদি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারি, যদি পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা ও পেশাদারিত্ব আনতে পারি—তাহলে বাংলাদেশকে পর্যটনের মানচিত্রে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে; এখন সেটিকে বিশ্বের সামনে সুন্দরভাবে তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের।
বাংলাদেশকে জানতে হলে আগে বাংলাদেশকে ঘুরে দেখতে হবে।

আর পর্যটনকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু সৌন্দর্য নয়—সৌন্দর্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা, মানুষের ভালো আচরণ এবং নিরাপদ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল—প্রয়োজন শুধু সঠিক উদ্যোগ, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
— একজন পর্যটক ও সচেতন নাগরিকের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
মোঃ কামাল উদ্দিন চৌধুরী

ক্যাটাগরি