জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হলে রাজপথেই জবাব দেওয়া হবে” -শাহজাহান চৌধুরী
চট্টগ্রাম, ৫ আগস্ট: জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাইয়ের গণহত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরী ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘী জেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও সহস্রাধিক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে কর্মসূচিটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি।
নগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, নগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, এলডিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আলাউদ্দিন আলী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোতালেব, এনসিপির মহানগরীর যুগ্ম আহবায়ক জসিমউদদীন ওপেল,।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জুলাই শুধু একটি আন্দোলন নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। তিনি ১/১১-এর হোতাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি বলেন, আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছিলাম যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। আপনারাও বলেছিলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু বাস্তবে সংসদে শুধু সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কারের জন্য পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল; অথচ আপনারা সেই ঐকমত্য থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, শুধু সংবিধান সংশোধন নয়; জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ৩২টি রাজনৈতিক দলের দাবির ভিত্তিতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। বিগত সরকারের সময়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আজ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও রাজপথে নামতে হবে—এটি আমরা কখনো কল্পনাও করিনি।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ বলছেন, আমরা জুলাই নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকুন। আমরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; দেশ, জনগণ এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করছি।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার দিন। তিনি বলেছিলেন, ‘শেখের বেটি পালায় না’; কিন্তু জনগণের দুর্বার আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে। জুলাই বিপ্লব প্রমাণ করেছে, জনগণের শক্তির কাছে কোনো স্বৈরশাসন টিকে থাকতে পারে না।
তিনি সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের গণহত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস ফেলছে। জনগণের এসব দুর্ভোগ নিরসনে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান না করে শুধু আশ্বাস দিলে চলবে না।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নেজাম ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার ও ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, নেজামে ইসলামের সেক্রেটারী মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারী আফসার উদ্দীন চৌধুরী, বিডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডঃজোবায়ের মাহমুদ, এলডিপি সেক্রেটারি আবু সাঈদ, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, হালিশহর থানা আমীর ফখরে জাহান সিরাজী, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আযম, সদরঘাট থানা আমীর এম এ গফুর, চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম, কোতোয়ালী থানা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।