সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

ফসল রক্ষায় বাধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার নারী, থানায় অভিযোগ; আর্থিক বিরোধের দাবি অভিযুক্তের

নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়ির চিকন ঘোনা এলাকায় ফসল রক্ষায় বাধা দিতে গিয়ে এক নারী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে লামা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রিনা আক্তার (৩৪)। অপরদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, ঘটনার পেছনে পূর্বের আর্থিক লেনদেনের বিরোধ রয়েছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে রিনা আক্তার জানান, তিনি একজন দরিদ্র কৃষক। কৃষিকাজই তাদের পরিবারের একমাত্র জীবিকার উৎস। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আবুল হাশেম (৫৫), মো. কাকন (২৫) ও রেজিয়া বেগম (৫০) তাদের ছাগল ছেড়ে দিয়ে তার ফসলি জমির ক্ষতি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় সালিসে ফসলের ক্ষতির জন্য বিবাদীপক্ষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু এরপরও ছাগল দিয়ে ফসল নষ্ট করা অব্যাহত থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিবাদীপক্ষের একটি ছাগল তার ফসলি জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করলে তিনি ছাগলটি ধরে বেঁধে রাখেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবাদ করলে তার মাথা লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হয়। ইটের আঘাতে তার কপালের বাম পাশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাদের ওই এলাকায় থাকতে দেবে না এবং হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দেন। চিকিৎসা শেষে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির পরামর্শে তিনি লামা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে লামা থানার পুলিশ জানায়, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল হাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তুচ্ছ একটি ঘটনা। তার দাবি, রিনা আক্তারের কাছে সুদ-আসল মিলিয়ে প্রায় ৯০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে এবং সেই বিরোধ থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সত্য। তবে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাওনা টাকার পরিমাণ ৭২ হাজার টাকা এবং গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে আগামী ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাকা পরিশোধের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারা বলেন, আর্থিক বিরোধের বিষয়টি আলাদা হলেও মারামারির ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা দাবির বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ক্যাটাগরি