বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

১৪ মাসে জব্দ, একদিনে ধ্বংস— ২২ কোটি টাকার ইয়াবা

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার রোধে অভিযান জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে গত ১৪ মাসে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট ধ্বংস করেছে বিজিবি। ধ্বংস করা এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ কোটি ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। এ সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বান্দরবানের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করা মাদকগুলো পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, ইয়াবা ধ্বংসের এই কার্যক্রমের পাশাপাশি গত এক বছরে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে মোট ৭৩ কোটি ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ টাকা মূল্যের মাদক ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৪ জনকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ইয়াবার পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, হেরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজিবি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাদক পাচার প্রতিরোধে শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে ভবিষ্যতে অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি এ কার্যক্রমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে ১১ বিজিবি।

ক্যাটাগরি