জাতীয় ক্রিকেট লিগে দাপটে খুলনা
শেখ তৈয়ব,খুলনা জেলা প্রতিনিধি:
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৮তম আসরের প্রথম রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে খুলনা। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের খুব কাছাকাছি রয়েছে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় দিন শেষে বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৪৩ রান সংগ্রহ করেছে। ইনিংস হার এড়াতে তাদের এখনো ২৮৯ রান করতে হবে।
এর আগে প্রথম দিন ৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে খুলনা। দিনের প্রথম সেশনে আরও ৯৮ রান যোগ করে ৪২৬ রানে অলআউট হয় তারা। খুলনার হয়ে কালাম সিদ্দিকী ১৬৮ বলে ৬টি চারে ৯২ রান করেন। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন করেন ১২৬ বলে ১২ চারে ৮৯ রান। নুরুল হাসান সোহান করেন ৪৭ রান।
খুলনার ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বরিশালের বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া ছিলেন সবচেয়ে সফল। ২৭.৫ ওভার বোলিং করে ৮০ রান দিয়ে তিনি নেন ৫ উইকেট। এটি চলতি এনসিএলের প্রথম ফাইফার এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রুয়েলের অষ্টম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। খুলনার ইনিংসে তার শিকার হন এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ মিঠুন, নুরুল হাসান সোহান, আফিফ হোসেন ও আব্দুল হালিম।
৪২৬ রানের বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বরিশাল। খুলনার বোলারদের তোপে মাত্র ২৮.৪ ওভারে ৯৪ রানে অলআউট হয় তারা। বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন ইফতি। জাওয়াদ আবরার করেন ১২ এবং শহিদুল ইসলাম করেন ১০ রান।
খুলনার হয়ে বল হাতে দারুণ সাফল্য পান শেখ পারভেজ জীবন ও মেহেদী হাসান রানা। দুজনেই তিনটি করে উইকেট নেন। সাফার আলী ও আব্দুল হালিম নেন দুটি করে উইকেট।
প্রথম ইনিংসে বরিশালকে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৩৩২ রানের লিড নেয় খুলনা এবং বরিশালকে ফলোঅনে পাঠায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও স্বস্তিতে ছিল না বরিশাল। জাওয়াদ আবরার শূন্য এবং ইফতেখার হোসেন মাত্র ১ রান করে আউট হন। দিন শেষে রাফসান আল মাহমুদ ২৬ এবং মোহাম্মদ সালমান ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এদিকে, চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় দিনে মাহমুদুল হাসান জয় সেঞ্চুরি করেছেন। তবে তার সেঞ্চুরিটি খুলনার বিপক্ষে নয়; চট্টগ্রামের হয়ে রাজশাহীর বিপক্ষে। জয় ১৭০ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন, যাতে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। এটি তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সপ্তম সেঞ্চুরি এবং এবারের এনসিএলের প্রথম শতক।
খুলনা-বরিশাল ম্যাচে এখন তৃতীয় দিনের শুরুতেই ফল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বরিশালের সামনে ইনিংস হার এড়াতে বড় প্রতিরোধ গড়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।