আজমুল হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিফাতকে পিরোজপুর থেকে গ্রেফতার করছে এসআরবি
শেখ তৈয়ব,জেলা প্রতিনিধি:খুলনা
খুলনার হরিণটানা থানায় দায়ের হওয়া নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন ওরফে আযম হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মো. হাসনাত হাবিব রিফাতকে (৩০) পিরোজপুর থেকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬, খুলনা ও এসআরবি-৮, বরিশালের যৌথ আভিযানিক দল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ২টার দিকে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানার কুড়িয়ানা-আদাবাড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হাসনাত হাবিব রিফাত সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহার ও বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পেছনে ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অভিযোগে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত আজমুল হোসেন (২২) চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার পর আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। ২১ সেপ্টেম্বর সোনাডাঙ্গা এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
গ্রেফতার রিফাতকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে এসআরবি-৬।