কাপ্তাইয়ে বন উজাড় নিয়ে উদ্বেগ রক্ষকই কি ভক্ষক? বন ধ্বংসে হারাচ্ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল
মো.জয়নাল আবেদীন, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে একসময় পাহাড়, বন ও জীববৈচিত্র্যের অপূর্ব সমন্বয় ছিল। ঘন সবুজ বনের ছায়ায় ছিল নানা প্রজাতির গাছপালা, পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বিচারে গাছ কাটাসহ নানা কারণে বনভূমি উজাড়ের চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
কাপ্তাই জেটিঘাটসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বনভূমির দিকে তাকালে কোথাও কোথাও সামনে কিছু গাছপালা দেখা গেলেও এর পেছনের অংশে দেখা যাচ্ছে বন উজাড়ের চিত্র। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।
বিশেষ করে হাতি, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও পাখির জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ আবাসস্থল, খাদ্য ও বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। বন ধ্বংসের কারণে বন্যপ্রাণীরা তাদের স্বাভাবিক পরিবেশ হারিয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে।
প্রশ্ন উঠছে—যে বন রক্ষার দায়িত্ব, সেই বনই যদি ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে যায়, তাহলে বন রক্ষার দায়িত্ব কার?
বন আমাদের শুধু কাঠের উৎস নয়। বন মাটি, পানি, বায়ু ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। পাহাড়ি অঞ্চলে বন ধ্বংসের প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। এতে পাহাড়ের মাটি ক্ষয়, ভূমিধস, পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া এবং জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, বন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা কতটা রয়েছে? অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একটি গাছ কাটা মানে শুধু একটি গাছ হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে পাখির বাসা, প্রাণীর আশ্রয়, প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবীর সম্ভাবনা।
আজ যদি বন রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের রেখে যাওয়ার মতো কতটুকু বন থাকবে—এটাই এখন বিবেকের কাছে বড় প্রশ্ন।
কাপ্তাইয়ের বন কার নিয়ন্ত্রণে, কার দায়িত্বে এবং বন রক্ষার বাস্তব চিত্র কী—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বন উজাড় বন্ধ করে অবশিষ্ট বন রক্ষা, নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রকৃতি ধ্বংস হলে তার দায় শুধু আজকের নয়—এর মূল্য দিতে হবে আগামী প্রজন্মকেও। তাই এখনই সময় বন ও প্রকৃতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।