রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

পাহাড়ে প্রযুক্তির আলো ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী, শুরু কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

অহিদুল ইসলাম অভি-জেলা প্রতিনিধি রাঙামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাঙামাটি সদর জোনের উদ্যোগে ‘কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় সদর জোন মাঠে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে পরিচালিত সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর মোঃ জুলফিকার রহমান, পিএসসি।

আয়োজকরা জানান, পার্বত্য এলাকার তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।এতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাঙালি তরুণ-তরুণীরাও অংশ নিচ্ছেন। মোট ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী এ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।

প্রশিক্ষণে কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পরিচালনা, ইন্টারনেট ব্যবহার ও তথ্য অনুসন্ধানসহ দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেজর মোঃ জুলফিকার রহমান বলেন, একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো গেলে তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের একই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনার ফলে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এ দক্ষতা ভবিষ্যতে তাদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনেও কাজে আসবে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী অর্পাবনিক বড়ুয়া বলেন, গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত। অর্থের অভাবে দরিদ্র পরিবারের অনেক তরুণ-তরুণী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান না। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে নিজের পাশাপাশি গ্রামের অন্যদের শেখাতেও কাজে লাগবে বলে জানান তিনি।

অপর প্রশিক্ষণার্থী সঞ্জিয়ং চাকমা বলেন, তাদের এলাকায় কম্পিউটার ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ খুব বেশি নেই। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন বিষয় শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পড়াশোনা ও কর্মজীবনে কাজে লাগবে। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের মৌলিক দক্ষতা তরুণদের শিক্ষা ও কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকার তরুণ-তরুণীদের হাতে-কলমে প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ তাদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ক্যাটাগরি