রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

কাপ্তাই লেকে ডাকাতির চার মাস পর গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার লুটের টাকার ব্যাগ

অহিদুল ইসলাম অভি-রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে নৌযানে ডাকাতির ঘটনায় প্রায় চার মাস পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন ওই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তবে মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় ঘটনার সঙ্গে তাদের প্রকৃত সম্পৃক্ততা এবং ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন আহাম্মেদ সফি (৪৪) এবং তক্তারাম সুব্রত চাকমা (৩২)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহাম্মেদ সফি রাঙামাটির বালুখালী ইউনিয়নের আদার পাহাড় এলাকার বাসিন্দা। তক্তারাম @ সুব্রত চাকমা রাঙামাটি শহরের দেওয়ানপাড়া পর্যটন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে তক্তারাম @ সুব্রত চাকমার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির সময় নিয়ে যাওয়া টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তে ব্যাগটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মামলার তথ্য ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে ২০২৬ বেলা ৩টার দিকে কোতয়ালী থানাধীন বালুখালী ইউনিয়নের আদার পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই লেকের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল এক ব্যক্তির ওপর ডাকাতি করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় ওই ব্যক্তির কাঁধে থাকা একটি ব্যাগ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একই ব্যাগে থাকা একটি মোবাইল ফোন, এয়ারটেল সিম, ব্র্যাক ব্যাংকের বনরূপা শাখার অব্যবহৃত চেকবই, মানিব্যাগ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির কাগজপত্রও লুট করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ৮ মে কোতয়ালী থানায় মামলা নম্বর-০৫, জিআর নম্বর-৬৬ হিসেবে দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

মামলা হওয়ার পর থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে আসছিল পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় চার মাস পর দুজনকে গ্রেপ্তার এবং একজনের বসতবাড়ি থেকে ডাকাতির সময় নিয়ে যাওয়া টাকার ব্যাগ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের এই বক্তব্যের আইনগত অবস্থান এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মামলার শুরুতে ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল ডাকাতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে ঘটনার সঙ্গে কথিতভাবে জড়িত অন্য ব্যক্তিরা কারা, লুট হওয়া চার লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামালের কী হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া ব্যাগটি কীভাবে একজন গ্রেপ্তার ব্যক্তির বসতবাড়িতে গেল, সেসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষ করে কাপ্তাই লেকের মধ্যে সংঘটিত এ ঘটনায় ব্যবহৃত নৌযান, কথিত সহযোগীদের পরিচয় এবং লুটের অর্থ ও মালামালের গতিপথ সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন করা তদন্তের পরবর্তী ধাপে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আহাম্মেদ সফিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর গ্রেপ্তার তক্তারাম @ সুব্রত চাকমার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে ডাকাতির ঘটনায় কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন এবং লুট হওয়া টাকা ও অন্যান্য মালামালের কী পরিণতি হয়েছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ক্যাটাগরি