বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতি

প্যাডেল রিকশা বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা চেয়ে আইনি নোটিশ

সারাদেশে প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রাইভেটকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পরিবেশ সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে সে বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলেও এসব যানবাহন সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির চাপ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ভর্তুকির ওপর প্রভাব ফেলছে এবং যানবাহনের ধোঁয়া বায়ুদূষণ বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

এ কারণে প্রাইভেটকারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চহারে পরিবেশ কর আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশে প্যাডেলচালিত রিকশাকে ‘আধুনিক দাসত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চরম দারিদ্র্যের কারণে অনেক প্রান্তিক মানুষ এ পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হন, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্যাডেল রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা স্থানীয় পরিবহনের একটি আধুনিক ও মানবিক বিকল্প হতে পারে। তাই এ যান নিষিদ্ধ না করে গতি, ব্রেকিং সিস্টেম এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

এতে আরও বলা হয়েছে, দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল থাকে, তবে তা জাতীয় সম্পদের সুষম ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ ছাড়া বেকারত্ব কমানো ও যানজট নিরসনে রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার এবং মিটারভিত্তিক গাড়ি সেবাকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশদাতার মতে, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেটকারের সংখ্যা সীমিত করে গণপরিবহন ও নিরাপদ রিকশা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

ক্যাটাগরি