মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

বিদ্যুৎ ও শিক্ষকসংকটে আলীকদম ম্রো কমপ্লেক্স: পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কি আঁধারেই হারিয়ে যাবে?

​হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
​বিদ্যুৎসংকট, প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব এবং তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় স্থবির হয়ে পড়েছে বান্দরবানের আলীকদম ম্রো কমপ্লেক্স। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার এক বুক আশা নিয়ে এই কেন্দ্রে পাঠালেও, মৌলিক সুযোগ-সুবিধার চরম ঘাটতিতে ভেস্তে যেতে বসেছে ১৩৪ জন শিক্ষার্থীর পড়ালেখার ভবিষ্যৎ।

​সম্প্রতি সরেজমিনে ম্রো কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে অন্ধকার কক্ষে নিভি নিভি ব্যাকআপ লাইট জ্বেলে কোনোমতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পর্যাপ্ত আলো না থাকায় পড়ালেখার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​কমপ্লেক্সটিতে দীর্ঘদিন ধরে চেপে বসা প্রধান সমস্যাগুলো হলো ​বয়েস হোস্টেলে তীব্র বিদ্যুৎসংকট। দীর্ঘমেয়াদি লোডশেডিং প্রতিদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্তব্ধ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম নিজ অর্থায়নে গার্লস হোস্টেলের জন্য দুটি ব্যাটারির ব্যবস্থা করায় সেখানে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, বয়েস হোস্টেল এবং পড়ালেখার সাধারণ হলরুমে অলটারনেটিভ বা এক্সট্রা কোনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই।

১৩৪ জন শিক্ষার্থীর এই আবাসে পাঠদানে সহযোগিতা করা বা তাদের পড়াশোনা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষক নেই। পুরো কমপ্লেক্সটি একজন পরিচালক, দুজন বাবুর্চি ও একজন নাইটগার্ডের ওপর নির্ভর করে অত্যন্ত সীমিত সামর্থ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

তাছাড়া শিক্ষার্থীদের গোসলের জন্য কমপ্লেক্সে মাত্র একটি উন্মুক্ত পুকুর রয়েছে। তবে মেয়েদের জন্য আলাদা নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ না থাকায় তারা যখন গোসল করতে নামে, তখন চারপাশ থেকে বখাটে ছেলেদের উঁকিঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়। সীমানাপ্রাচীর ও গোপনীয়তাহীন এই পুকুরটি ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​কমপ্লেক্সের পরিচালক ইয়ংলোক ম্রো জানান, এসব সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

​উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোগত নির্মাণে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান ও শিক্ষার সুযোগে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। ম্রো কমপ্লেক্সের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে বয়েস হোস্টেলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বা আইপিএস/সোলার স্থাপন, অন্তত একজন নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পৃথক ও নিরাপদ গোসলখানার ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় নেতৃত্বের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ক্যাটাগরি