মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল; পানির নিচে ঝুলন্ত সেতু

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে হ্রদতীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পানির নিচে তলিয়ে গেছে রাঙামাটির অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু।

শনিবার দুপুর পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। যেখানে হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের গেট খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশন করা হবে। তবে পানির উচ্চতা ও উজানের পানির প্রবাহ বিবেচনায় গেট খোলার পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

হ্রদের পানি বাড়তে থাকায় বাঘাইছড়ি, লংগদু, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে বসতবাড়ি ও চলাচলের পথে পানি উঠে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে। পানি আরও বাড়লে নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকার ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। সেতুর পাটাতনের ওপর প্রায় এক ফুট পানি উঠে যাওয়ায় পর্যটকদের চলাচল নিয়ে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটন ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সেতু এলাকায় সতর্কতা জোরদার এবং প্রয়োজনে পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িক বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কাপ্তাই হ্রদের পানি, উজানের পানির প্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ক্যাটাগরি